• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১৮ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
চেকপোস্ট ও টহল ফাঁকি দিয়ে রাতে সাবাড় ১৪ গাছ, নেপথ্যে কারা? ​জুয়েল আহমদ জুলি ছাত্রলীগের কর্মী নন, ছাত্রদলের স্বপদেই বহাল: মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রদল স্মার্টফোন আসক্তি দূর করে ক্রীড়ামুখী প্রজন্ম গড়ার প্রত্যয়ে আসছে ‘কমলগঞ্জ ইনডোর স্টেডিয়াম ​আলীনগর ১নং ওয়ার্ডে মেম্বার পদপ্রার্থী আবুল হোসেনের প্রশংসনীয় উদ্যোগ, নিজস্ব তহবিলে সড়ক মেরামত মৌলভীবাজারে কালের কণ্ঠের সাংবাদিক সালাউদ্দিন শুভর চরিত্রহননে এআই-এর অপব্যবহার, তীব্র প্রতিবাদ ​ক্লাসে শিক্ষিকার ঘুম, কমলগঞ্জে বিদ্যালয়জুড়ে অনিয়মের অভিযোগ কমলগঞ্জে মুজাহিদ মঞ্জিল থেকে ৫ বিষধর কোবরার বাচ্চা উদ্ধার কমলগঞ্জে তরুণীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার, চিরকুট নিয়ে রহস্য হাটহাজারীতে ফায়ারিং অনুশীলনে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা: ২ সেনাসদস্য নিহত, সেনাকর্তাসহ আহত ২ শমশেরনগরে ভ্রাম্যমাণ আদালত: লাইসেন্সহীন রেস্টুরেন্ট ও আইসক্রিম ফ্যাক্টরিকে দেড় লাখ টাকা জরিমানা

রক্ষক যখন ভক্ষক: পরিচয় দেওয়ার পরও সাংবাদিক তোফায়েলকে বেধড়ক পিটুনি, পুলিশের এ কেমন ‘মাদকবিরোধী অভিযান’

আহমেদ নাজিম / ২২৬ Time View
Update : সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

470

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অভিযানে সাংবাদিকদের ওপর পুলিশের বর্বর হামলা, হাসপাতালে তোফায়েল

​নিজস্ব প্রতিবেদক 

প্রকাশিত: ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

​রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সংবাদকর্মীদের ওপর পুলিশের বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে মাদকবিরোধী অভিযানের সংবাদ সরাসরি সম্প্রচার করার সময় বাংলানিউজের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার তোফায়েল আহমেদসহ বেশ কয়েকজন সংবাদিক পুলিশের লাঠিচার্জ ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন। বর্তমানে গুরুতর আহত অবস্থায় তোফায়েল আহমেদ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

​ঘটনার বিবরণ

​প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মাদক নির্মূলে বিশেষ অভিযানে নামে পুলিশ। জনগুরুত্বপূর্ণ এই অভিযানের দৃশ্য জনসমক্ষে তুলে ধরতে ফেসবুক লাইভ করছিলেন সাংবাদিক তোফায়েল আহমেদসহ কয়েকজন সংবাদকর্মী। লাইভ চলাকালীন কোনো উসকানি ছাড়াই একদল পুলিশ সদস্য এসে তোফায়েলকে লক্ষ্য করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে।

​তোফায়েল নিজের সাংবাদিক পরিচয় দিলেও পুলিশ সদস্যরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয় এবং তাকে লক্ষ্য করে বেধড়ক লাঠিপেটা শুরু করা হয়।

​ঘটনাস্থলে উপস্থিত ‘আজকের পত্রিকা’র মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার কাওসের আহম্মেদ রিপন বলেন,

​”পুলিশ কোনো ধরনের বাছবিচার ছাড়াই সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয়। তোফায়েলকে যখন মারা হচ্ছিল, তখন আমরা তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করি। কিন্তু পুলিশ সদস্যরা এতটাই মারমুখী ছিলেন যে, তারা আমাদের ওপরও লাঠিচার্জ করেন।”

 

​চিকিৎসা ও বর্তমান অবস্থা

​পুলিশের বেধড়ক পিটুনিতে তোফায়েল আহমেদের মাথা ও পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়েছে। সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ভোঁতা অস্ত্রের আঘাতে তার শরীরে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের ঝুঁকি রয়েছে।

​কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

​এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় পুলিশের অপেশাদার আচরণ নিয়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মাসুদ আলম জানান, ভিডিও ফুটেজ দেখে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে ঘটনার পর তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় পুলিশের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাংবাদিক নেতারা।

​সাংবাদিক মহলে তীব্র নিন্দা

​এই হামলার প্রতিবাদে রাতেই বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। সাংবাদিক নেতারা এই ঘটনাকে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধের শামিল বলে অভিহিত করেছেন। তারা অবিলম্বে হামলাকারী পুলিশ সদস্যদের বরখাস্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় রাজপথে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

​নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অপরাধ দমনের নামে পুলিশের এমন ‘বেপরোয়া’ আচরণ বাহিনীর ভাবমূর্তিকে সংকটে ফেলেছে। রক্ষক যখন ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়, তখন আইনের শাসন নিয়ে জনমনে বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দেয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd