যথাযোগ্য মর্যাদা, গভীর শ্রদ্ধা আর বর্ণাঢ্য উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় পালিত হয়েছে মহান বিজয় দিবস-২০২৫। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত দিনব্যাপী কর্মসূচিতে বীর শহীদদের স্মরণ করার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছে স্বাধীনতার চেতনা তুলে ধরা হয়।


মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) প্রত্যুষে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের শুভ সূচনা করা হয়। সূর্যোদয়ের সাথে সাথেই কমলগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ স্মৃতিসৌধে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এরপর রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও সর্বস্তরের জনতা পুষ্পমাল্য অর্পণে অংশ নেন।
ভোর সাড়ে ৭টায় কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক মো. আসাদুজ্জামান এবং কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল আউয়ালের নেতৃত্বে একটি বিশেষ প্রতিনিধি দল ধলই চা বাগানে অবস্থিত বীর শ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমান স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর একে একে কামুদপুর মুক্তিযোদ্ধা কবরস্থান, দেওড়াছড়া চা বাগান বধ্যভূমি ও শমশেরনগর বধ্যভূমিতে পুষ্পার্পণ করে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করা হয়।

সকাল ৯টায় কমলগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে শুরু হয় দিবসের মূল আকর্ষণ। সেখানে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সমাবেশ, দৃষ্টিনন্দন কুচকাওয়াজ ও শারীরিক কসরত (ডিসপ্লে) অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মো. আসাদুজ্জামান সালাম গ্রহণ করেন। কুচকাওয়াজ শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
বেলা সাড়ে ১১টায় কমলগঞ্জ মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স মিলনায়তনে এক আবেগঘন পরিবেশে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের ফুল ও উপহার দিয়ে সম্মানিত করা হয়। এ সময় বক্তারা বলেন, “মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান, তাদের আত্মত্যাগের কারণেই আজ আমরা স্বাধীন মানচিত্র পেয়েছি।”

দুপুরে স্কুল মাঠে দিনব্যাপী ‘বিজয় মেলা’র শুভ উদ্বোধন করা হয়। এছাড়াও দিবসটি উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের জন্য চিত্রাঙ্কন ও বিষয়ভিত্তিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। বিকেলে এক প্রীতি ফুটবল ম্যাচ ও সন্ধ্যায় স্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
দিবসটি উপলক্ষে উপজেলার সকল সরকারি, আধাসরকারি ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয় এবং প্রধান সড়কগুলো আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হয়।
বিজয় দিবস উপলক্ষে উপজেলার সকল মসজিদ, মন্দির ও গীর্জায় বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনা সভার আয়োজন করা হয়। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের বিশেষ ব্যবস্থাপনায় হাসপাতাল, এতিমখানা ও স্থানীয় সামাজিক কেন্দ্রগুলোতে উন্নত মানের খাবার পরিবেশন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত থেকে দিবসটির গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরেন।