ডেক্স রিপোর্ট-
রাষ্ট্র পরিচালনা কোনো যান্ত্রিক কাজ না।রাষ্ট্র পরিচালনার সম্পুর্ন পক্রিয়াটি মূলত নেতৃত্বের চরিত্র, দলীয় সংস্কৃতি, নীতি-নৈতিকতা এবং সংগঠন পরিচালনার দক্ষতার ওপর নির্ভরশীল।একটি দল যখন ক্ষমতায় আসে, তারা তাদের দলকে ঠিক যেভাবে পরিচালনা করে আসে—রাষ্ট্রকেও ঠিক সেভাবেই পরিচালিত করে। তাই একটি রাজনৈতিক দলের ভেতরের চরিত্রই দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক, সামাজিক ও প্রশাসনিক চেহারার আগাম ছবি তুলে ধরে।
আমরা প্রায়ই দেখি অনেক দল জনসমক্ষে গণতন্ত্র, ন্যায়, শৃঙ্খলা, মানবিকতার কথা বলে; অথচ নিজেদের দলের ভেতরেই সেই মূল্যবোধের ছিটেফোঁটা থাকে না। ভেতরে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, অভ্যন্তরীন কোন্দল,পদের লড়াই, সিন্ডিকেট, ক্ষমতার কামড়াকামড়ি—আর বাইরে বিশুদ্ধতার মুখোশ। এই দ্বিচারিতা বাংলার রাজনীতিতে আজ চরম সত্য। যে দল তার নিজেদের কর্মীদের সম্মান করতে জানে না, ভিন্নমত সহ্য করতে পারে না, নেতৃত্বের সিদ্ধান্তকে সু-শৃঙ্খল প্রক্রিয়ায় গ্রহণ করে না—তারা ক্ষমতায় গেলে জনগণের অধিকার কীভাবে রক্ষা করবে? যারা নিজেদের কর্মীকে বিশ্বাস করতে পারে না তারা একটি রাষ্ট্রকে কীভাবে ন্যায়সঙ্গতভাবে পরিচালনা করবে?বরং দলের ভেতরের বিশৃঙ্খলা বাইরে ক্ষমতায় এসে আরও ভয়ংকর রূপ নেয়।
অন্যদিকে এমনও দল রয়েছে, যারা শক্ত শৃঙ্খলার ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। সেখানে পরস্পরের প্রতি সম্মান, আদর্শের প্রতি আনুগত্য, নেতৃত্বের প্রতি আস্থা ও দায়িত্ববোধ এসব বিষয় স্বাভাবিক নিয়মের মতো বিদ্যমান। এ রকম সংগঠনের অভ্যন্তরে কোনো পদলোভন বা ক্ষমতার জন্য কামড়াকামড়ি নেই। ভিন্নমতও সেখানে শুদ্ধতার সঙ্গে প্রক্রিয়া অনুযায়ী সমাধান হয়।ঐতিহাসিক ভাবে দেখতে পাই, যে দল ধৈর্য, শৃঙ্খলা ও নেতৃত্বমান্যতার ভিত্তিতে সংগঠিত থাকে, তারা ক্ষমতায় গেলে দেশও শৃঙ্খলা, ন্যায় ও উন্নয়নের পথে এগোয়। কারণ দলকে যেভাবে চালায়, রাষ্ট্রকেও ঠিক সেভাবে চালাতে হয়।
অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা রাষ্ট্রকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়
রাজনীতি কোনো ব্যক্তিগত খেলার অংশ না।রাজনীতি জনগণের জীবনযাত্রা, অর্থনীতি, নিরাপত্তা, শিক্ষা, প্রশাসন সবকিছুর ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। যে দলের ভেতরে নেতাদের প্রতি দম্ভ, ক্ষমতার লড়াই, পেছনে ষড়যন্ত্র, দুর্নীতির প্রাতিষ্ঠানিক চর্চা থাকে তারা ক্ষমতায় গেলে পুরো রাষ্ট্রকাঠামোতেই সেই দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতা ছড়িয়ে পড়ে।
তাহলে ক্ষমতায় গিয়ে সেই দল জনগণের উপর একই দমননীতি, একই বিশৃঙ্খলা এবং একই স্বেচ্ছাচার চাপিয়ে দেয়।যা বহু দেশের ইতিহাসে প্রমাণিত বাস্তবতা।
একজন নেতা তার দলের বাইরে যা দেখান তা অনেক সময় রাজনৈতিক প্রদর্শনীর অংশ। কিন্তু তিনি দলকে যেভাবে পরিচালনা করেন, সেটাই তার প্রকৃত নেতৃত্বের আসল রূপ।এই কারণে দল পরিচালনার চরিত্রই দেশের ভবিষ্যৎ ঠিক করে দেয়। যে দল শৃঙ্খলা মানে, যোগ্যদের প্রাধান্য দেয়, কর্মীদের মর্যাদা রক্ষা করে,সিদ্ধান্ত গ্রহণে ন্যায়নীতি অনুসরণ করে,তারা রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে জনগণের অধিকার রক্ষা করে।
আর যে দল ভেতরে দুর্নীতি, বিশৃঙ্খলা ও ক্ষমতার লড়াই লুকিয়ে রাখে তারা রাষ্ট্রে এসে সেই অস্থিরতাকে আরও বড় আকারে ছড়িয়ে দেয়।
রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে দলের সংস্কৃতির ওপর
এই জন্যই রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেন—
যে দল নিজ ঘর ঠিক রাখতে পারে না তাদের ওপর দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া জাতির জন্য আত্মঘাতী।
একটি দল দেশের ভাগ্য নির্ধারণ করে আর দলের ভাগ্য নির্ধারণ করে তাদের কার্যপ্রণালী, শৃঙ্খলা ও মূল্যবোধ।যে দল ভেতরে আলো জ্বালে, তারা দেশকে আলোকিত করে।যে দল ভেতরে আগুন জ্বালায়, তারা ক্ষমতায় গিয়ে দেশকেও দগ্ধ করে।