কমলগঞ্জে রাস্তা নিয়ে বিরোধে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, আহত ৪ এলাকায় উত্তেজনা
নিজস্ব প্রতিবেদক
কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার)
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর ইউনিয়নে বসতবাড়ির চলাচলের রাস্তা নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের অতর্কিত হামলায় একই পরিবারের ৩ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। রোববার (২১ ডিসেম্বর) সকাল ৯টার দিকে ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামে এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহতদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট: স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোবিন্দপুর গ্রামের মো. আব্দুল মতিনের পরিবারের সাথে প্রতিবেশী মো. শফিক মিয়া ও রফিক মিয়াদের চলাচলের রাস্তার সীমানা নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে বিরোধ চলছিল। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সালিশ-বিচারের মাধ্যমে সমাধান করা হয়। সালিশি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রোববার সকালে রাস্তার ওপর ইট সলিংয়ের কাজ শুরু করতে গেলে প্রতিপক্ষরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়।
আহতদের বিবরণ: হামলায় ধারালো রামদা, কোরাল ও লোহার রডের আঘাতে গুরুতর জখম হন মো. সুমন মিয়া (২৭), শামিম মিয়া (৩০) ও জসিম মিয়া। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সুমনের মাথায় ১২টি এবং শামিমের মাথায় ৮টি সেলাই লেগেছে।
অভিযোগ ও বর্তমান পরিস্থিতি: এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আব্দুল মতিন বাদী হয়ে কমলগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্তরা হলেন— একই গ্রামের মো. শফিক মিয়া, রফিক মিয়া, মধু মিয়া, বাবেল মিয়া, রাহেল মিয়া ও মো. ফয়সাল মিয়া।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, হামলার পর থেকে অভিযুক্তরা তাদের অবরুদ্ধ করে রেখেছে এবং পুনরায় হামলার হুমকি দিচ্ছে। অভিযুক্তরা প্রভাবশালী হওয়ায় এলাকায় চরম নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছে পরিবারটি। স্থানীয়রা জানান, অভিযুক্তদের বেপরোয়া আচরণের কারণে এলাকায় পুনরায় বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে।
ভুক্তভোগীর বক্তব্য: আহতদের পিতা আব্দুল মতিন বলেন, “আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সালিশি সিদ্ধান্ত মেনেই কাজ শুরু করেছিলাম। কিন্তু তারা পূর্বপরিকল্পিতভাবে আমার ছেলেদের ওপর প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছে। আমি প্রশাসনের কাছে এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছি।”
শমশেরনগর এলাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।