যুবককে নির্মম নির্যাতন, থানায় অভিযোগ
দেশীয় অস্ত্রের হামলায় গুরুতর আহত মিলন, আতঙ্কে পরিবার

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলা উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ডাকা এক শালিস বৈঠকে মিলন মিয়া (২৫) নামে এক যুবককে পরিকল্পিতভাবে ডেকে নিয়ে নির্মম নির্যাতন ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আহতের পরিবার বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, গত ৯ এপ্রিল রাত প্রায় ৮টার দিকে ইসলামপুর ইউনিয়নের কালারায়বিল বাজার এলাকায় একটি শালিস বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠকে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য এবং কয়েকজন ব্যবসায়ী উপস্থিত ছিলেন। শালিসের বিষয়টি নিষ্পত্তির কথা বলে ইসলামপুর ইউনিয়নের ছয়গড়ি গ্রামের সজ্জাদ মিয়ার ছেলে মিলন মিয়াকে সেখানে ডেকে নেওয়া হয়।
অভিযোগ রয়েছে, বৈঠক চলাকালীন পূর্ব বিরোধের জের ধরে আগে থেকেই পরিকল্পিতভাবে একদল লোক মিলনের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা লাঠিসোটা ও ধারালো দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। একপর্যায়ে মিলনকে এলোপাতাড়ি মারধর ও কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করা হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলার সময় মিলনের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় মিলন মিয়াকে উদ্ধার করে দ্রুত কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ ভর্তি করেন। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র নেওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, এই হামলার নেতৃত্ব দেন ছয়গড়ি গ্রামের মৃত হাসিদ মিয়ার ছেলে তোতা মিয়া, মৃত ইলাছ মিয়ার ছেলে সাইত্তা মিয়া, রউফ মিয়ার ছেলে রেদুয়ান মিয়া, রিপন মিয়ার ছেলে হেলাল মিয়া, ওয়াহাব মিয়ার ছেলে রায়হান মিয়া, গনি মিয়ার ছেলে মনফর মিয়া, বিছি মিয়ার ছেলে আজিদ মিয়া এবং বাংলা টিলা গ্রামের মাম্মদ মিয়ার ছেলে সুহাই মিয়া। তাদের সঙ্গে আরও কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তি হামলায় অংশ নেয় বলে দাবি পরিবারের।
আহত মিলনের মা রাবিয়া বেগম অভিযোগ করে বলেন, “আমার ছেলেকে বিচার করার কথা বলে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে মেরে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে। এখন তারা মামলা তুলে নিতে চাপ দিচ্ছে। আমরা বাড়ি থেকে বের হতেও ভয় পাচ্ছি। যেকোনো সময় আবার হামলা হতে পারে।”
তিনি আরও জানান, হামলার পর থেকেই অভিযুক্তরা বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে। এতে পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। স্থানীয় অনেকেই বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় মিলনের মা রাবিয়া বেগম বাদী হয়ে অভিযুক্তদের নাম উল্লেখ করে কমলগঞ্জ থানা এ একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এ বিষয়ে কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আওয়াল বলেন, “আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।”
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় সচেতন মহল শালিসের নামে সহিংসতা ও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা বন্ধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ কামনা করেছেন।