মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলায় রাতের অন্ধকারেও জাতীয় পতাকা উত্তোলিত থাকার ঘটনা ঘটেছে। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে উত্তোলিত এই পতাকা সূর্যাস্তের আগে নামানোর নিয়ম থাকলেও তা অমান্য করায় স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সন্ধ্যা ৭টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ৫০ শয্যা বিশিষ্ট এই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে পাইপের মাথায় তখনও পতপত করে উড়ছে বাংলাদেশের লাল-সবুজের জাতীয় পতাকা। সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পতাকা উত্তোলনের নিয়ম থাকলেও সন্ধ্যার পর তা ওড়ানো রাষ্ট্রীয় মর্যাদার অবমাননা বলে গণ্য করা হয়।
হাসপাতালে সেবা নিতে আসা প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যার অন্ধকার ঘনিয়ে এলেও পতাকাটি নামানো হয়নি দেখে তারা অবাক হন এবং বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আনেন। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় ব্যবসায়ী রুহুল আমিন ও সমাজকর্মী আশিকুর রহমান বলেন, “৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই পতাকার এমন অবমাননা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এটি দায়িত্বশীলদের চরম গাফিলতি ও উদাসীনতারই প্রমাণ।”
জাতীয় পতাকা বিধিমালা-১৯৭২ (সংশোধিত ২০১০) অনুযায়ী, বিশেষ দিবসগুলোতে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত জাতীয় পতাকা উত্তোলনের বিধান রয়েছে। এই আইন অমান্য করলে সর্বোচ্চ ১ বছরের কারাদণ্ড বা ৫ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সানজিদা সাংবাদিকদের বলেন, “পতাকাটি নামানো হয়নি বিষয়টি মাত্রই জানতে পারলাম। আমরা দ্রুত এটি নামানোর ব্যবস্থা নিচ্ছি।”
বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইসলাম উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ঘটনাটি তিনি অবগত হয়েছেন। জাতীয় পতাকার অবমাননার বিষয়ে খোঁজ নিয়ে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রাষ্ট্রীয় প্রতীকের প্রতি এমন উদাসীনতার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও সমালোচনার ঝড় বইছে। এলাকাবাসী এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।