মৌলভীবাজারে বখাটের যৌন হয়রানি: বাঁচতে চলন্ত টমটম থেকে লাফিয়ে আহত কলেজছাত্রী
মৌলভীবাজার সদর উপজেলায় এক বখাটের যৌন হয়রানি ও অপহরণের হাত থেকে রক্ষা পেতে চলন্ত টমটম (অটোরিকশা) থেকে লাফ দিয়ে মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন এক কলেজছাত্রী। পাকা রাস্তায় ছিটকে পড়ার কারণে ওই শিক্ষার্থীর সামনের দুটি দাঁত ভেঙে গেছে এবং তিনি মুখে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন।
সোমবার (৩১ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ১০টা ২০ মিনিটে শহরের গোমরা যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সামনের সড়কে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।
আহত শিক্ষার্থীর নাম সাদিয়া আক্তার ঝুমা (১৮)। তিনি শহরের উত্তর জগন্নাথপুর এলাকার গোমরা সুলেমান ভিলার ভাড়াটিয়া জাহাঙ্গীর আলমের মেয়ে এবং স্থানীয় একটি কলেজের শিক্ষার্থী।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালে কলেজে যাওয়ার উদ্দেশে বাসা থেকে বের হয়ে একটি টমটম অটোরিকশায় ওঠেন ঝুমা। গাড়িটিতে আগে থেকেই এক অজ্ঞাতনামা যাত্রী বসা ছিল। অটোরিকশাটি চলতে শুরু করলে ওই বখাটে বারবার ঝুমার গা ঘেঁষে বসার চেষ্টা করে এবং উত্ত্যক্ত করতে থাকে। ঝুমা প্রতিবাদ জানানো ও বারণ করা সত্ত্বেও বখাটে যুবক তা অমান্য করে যৌন হয়রানি চালাতে থাকে।
একপর্যায়ে অটোরিকশাটি গোমরা যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সামনে পৌঁছালে পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক দেখে এবং সম্ভাব্য অপহরণ থেকে নিজের সম্ভ্রম ও প্রাণ বাঁচাতে চলন্ত গাড়ি থেকেই লাফ দেন ঝুমা। এতে পাকা রাস্তায় আছড়ে পড়ে তিনি মুখে মারাত্মক আঘাত পান এবং তার সামনের দুটি দাঁত ভেঙে যায়। পরে তার মা ও স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার পরপরই ক্ষুব্ধ স্থানীয় জনতা সন্দেহভাজন অটোরিকশা ও তার চালককে ধাওয়া করে পুলিশ লাইনের সামনে আটকে রাখে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
এ বিষয়ে মৌলভীবাজার সদর থানায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।