নিজস্ব প্রতিবেদক
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় স্বামী সুহেল মিয়ার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, ভরণপোষণ বন্ধ এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ তুলেছেন তার স্ত্রী রুবিনা বেগম (৩৫)। এমনকি সন্তানদের জন্মনিবন্ধনের কাগজ তুলতে যাওয়ার পথে নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপায়ান্তর না দেখে ভুক্তভোগী নারী কমলগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের পূর্ব কালীপুর এলাকার বাসিন্দা রুবিনা বেগমের সাথে দক্ষিণ কামুদপুর এলাকার সুহেল মিয়ার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে তিনটি কন্যাসন্তান রয়েছে। রুবিনার অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই সুহেল সংসারের দায়িত্ব পালনে উদাসীন। উল্টো পরকীয়া ও অন্যত্র বিয়ের প্রতিবাদ করায় প্রায়ই তাকে মারধর ও মানসিক নির্যাতন করা হতো।
গত ৬ ফেব্রুয়ারি সকালে সন্তানদের জন্মনিবন্ধনের কাজে ইউনিয়ন পরিষদে যাওয়ার পথে সুহেল তাকে গতিরোধ করেন। সেখানে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে ব্যাগ থেকে ৮ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে রুবিনা জানান।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে স্ত্রী ও সন্তানদের কোনো খরচ দিচ্ছেন না সুহেল। বর্তমানে অন্যের বাড়িতে কাজ করে সন্তানদের মুখে অন্ন তুলে দিচ্ছেন রুবিনা। প্রতিবেশী মিনারা বেগম বলেন, “তিনটি মেয়ে নিয়ে ওই নারী খুব কষ্টে আছেন। আমরা গ্রামবাসী মাঝে মাঝে সাহায্য করি, কিন্তু এভাবে কতদিন চলে?”
বিস্ময়কর বিষয় হলো, অভিযুক্ত সুহেল মিয়ার খোদ জন্মদাতাও তার নির্যাতনে অতিষ্ঠ। সুহেলের বাবা আব্দুল ওয়াহিদ বলেন, “ছেলে আমাকেও বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। ওষুধ বা খাবারের টাকা চাইলে মারধর করে। আমি এই কুলাঙ্গার ছেলের বিচার চাই।”
স্থানীয় ইউপি সদস্য রইছ আলী জানান, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে একাধিকবার সালিশের উদ্যোগ নেওয়া হলেও সুহেল তাতে অংশ নেননি এবং কোনো সিদ্ধান্ত মানেননি।
কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আউয়াল বলেন, “লিখিত অভিযোগটি আমরা পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।