মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে ইভটিজিংয়ের শিকার হয়েছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী এক শিক্ষিকা (৩০)

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকাল ৪টার দিকে উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের ধোবারহাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত দিবস দত্ত (৩৬) শ্রীমঙ্গলের ১ নম্বর মির্জাপুর ইউনিয়নের ধোবারহাট এলাকার দীন বন্ধু দত্তের ছেলে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষিকার বাবা মধু সুধন দেব থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেছেন, ভিকটিম আমার মেয়ে কামাসিদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা। বিবাদী দিবস দত্ত একই গ্রামের বাসিন্দা। বিবাদী বিবাহিত ও তার স্ত্রী সন্তান আছে। বিবাদী প্রায়ই আমার মেয়েকে স্কুলে আসা-যাওয়ার পথে বিভিন্ন ধরনের খারাপ ও অশ্লীল কথাবার্তা বলে বিরক্ত করে আসছে। এ বিষয়ে আমার মেয়ে জানালে আমরা বিবাদীর পরিবারের নিকট বিচার প্রার্থী হই। কিন্তু বিবাদী আমার মেয়েকে বিরক্ত করা বন্ধ করেনি।
অভিযোগে বলা হয়, গত বৃহস্পতিবার (বিকাল ৪টার দিকে আমার মেয়ের স্কুল ছুটি হওয়ার পর বাড়িতে ফেরার পথে পথরোধ করে বিবাদী আমার মেয়েকে বিভিন্ন ধরনের খারাপ ও অশ্লীল কথাবার্তা বলে। তখন আমার মেয়ে প্রতিবাদ করলে বিবাদী আমার মেয়ের পড়নের কাপড়-চোপড় ধরে টানা-হেচড়া করে শ্লীলতাহানী করে। বিবাদী রাস্তায় ফেলে টানা-হেঁচড়া করে ১০ হাত সামনে নিয়ে গেলে আমার মেয়ের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে উদ্ধার করেন। এ সময় বিবাদী আমার মেয়েকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে চলে যায়। এ বিষয়ে আমি প্রশাসনের সহযোগিতা চাই।
এ ব্যাপারে কামাসিদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামসুখ দত্ত বলেন, ‘আমার বিদ্যালয়ের ওই শিক্ষিকাকে স্কুল যাওয়া আসার পথে প্রায় উত্যক্ত করতো অভিযুক্ত ব্যক্তি। গত বৃহস্পতিবার স্কুল ছুটির পর মেডাম বাড়িতে যাওয়ার পথে আবারো পথরোধ করে ইভটিজিং করে।’
এ নিয়ে বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির শ্রীমঙ্গল উপজেলা সেক্রেটারি কল্যাণ দেব জীবন বলেন, ‘বিবাদীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ইতোমধ্যে আমাদের সংগঠনের উপজেলা শাখার সভাপতি খন্দকার জাকিরসহ ভিকিটমির বাবাকে নিয়ে শ্রীমঙ্গল থানার ওসি সাহেবের সাথে কথা বলেছি। এছাড়া বিষয়টি আমরা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মহোদয়কে জানিয়েছি। আগামীকাল ওই শিক্ষিকাকে সঙ্গে নিয়ে ইউএনও স্যারের সাথেও এ বিষয়ে আলাপ করব।’
এ বিষয়ে কথা বলতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলামকে মুঠোফোনে কল করলে তিনি রিসিভ করেননি।
শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, ‘এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। আমরা কাজ শুরু করেছি।’