কমলগঞ্জে ১২০ ‘কুরআনের পাখির’ বিদায়: দেশ ও প্রবাসীদের অর্থায়নে গকুলনগর মথুরাপুর মসজিদে বর্ণাঢ্য আয়োজন

মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার গকুলনগর মথুরাপুর জামে মসজিদে ইত্তেহাদুল কুররা বাংলাদেশ কর্তৃক পরিচালিত মাসব্যাপী দারুল কেরাত প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী, পুরস্কার বিতরণী ও বিদায়ী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। দেশ ও প্রবাসীদের সার্বিক আর্থিক সহযোগিতায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মানুষের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।
অতিথিদের উপস্থিতি ও বিশেষ সম্মাননা

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রখ্যাত আলেম মাওলানা নুরুল হক রেজাব। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুবাই প্রবাসী, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও দারুল কেরাত কমিটির সভাপতি সালমান খাঁন এরশাদ। অনুষ্ঠানের একটি বিশেষ পর্যায়ে সভাপতি সালমান খাঁন এরশাদকে তার নিরলস পৃষ্ঠপোষকতার জন্য শিক্ষকদের পক্ষ থেকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন:
আব্দুর রশিদ, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও প্রবাসী ব্যক্তিত্ব।
আবু রায়হান রাহি, সেক্রেটারি, দারুল কেরাত কমিটি।
মোঃ কামরুল হাসান, বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।
মনসুর আহমেদ মুকিদ ও ওয়াসিম আহমেদ,
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মসজিদের ক্যাশিয়ার খুরশেদ মিয়া সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
রেমিট্যান্স যোদ্ধা ও দাতাদের অবদান
বক্তারা তাদের বক্তব্যে বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, এই মহতী আয়োজন সফল হয়েছে দেশ ও প্রবাসীদের অকুন্ঠ আর্থিক সহায়তায়। প্রবাসে থেকেও দ্বীনি কাজে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ায় স্থানীয় সমাজসেবক ও প্রবাসী দাতাদের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।
প্রশিক্ষণ ও পরিচালনা পর্ষদ
গকুলনগর মথুরাপুর জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব এবং দারুল কেরাতের প্রধান ক্বারী মাওলানা আলী হোসেনের প্রাণবন্ত সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে মোট ১২০ জন ছাত্র-ছাত্রী অংশগ্রহণ করে।
নাজি
ম ক্বারী ফয়সল আহমেদ রাফি-এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে শিক্ষার্থীদের মাসব্যাপী তাজবীদ ও শুদ্ধ তিলাওয়াত শিক্ষা প্রদান করেন সহকারী শিক্ষকবৃন্দ:
১. ক্বারী সায়েম আহমেদ খাঁন
২. ক্বারী মিনহাজুল ইসলাম
৩. ক্বারী আব্দুস সামাদ
৪. ক্বারী তোফাজ্জল হোসেন

প্রধান অতিথির বক্তব্য
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সালমান খাঁন এরশাদ আবেগপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “পবিত্র রমজান মাসজুড়ে এই মাসুম বাচ্চাদের সাথে সময় কাটাতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি। এই ১২০ জন কুরআনের পাখিই আমাদের আগামীর সম্পদ। প্রবাসে থাকলেও আমাদের মন পড়ে থাকে জন্মভূমির এই দ্বীনি প্রতিষ্ঠানের আঙিনায়। দেশ ও প্রবাসীদের যে ঘামঝরা অর্থ এই আয়োজনে ব্যয় হয়েছে, তার সার্থকতা তখনই হবে যখন এই শিশুরা কুরআনের আলোয় নিজেদের জীবনকে আলোকিত করবে।” তিনি আরও বলেন, “শিক্ষকরা হলেন এই বাগানের মালি। তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে আজ আমাদের শিশুরা শুদ্ধভাবে আল্লাহর কালাম তিলাওয়াত করতে শিখছে। আমরা আগামীতেও এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চাই এবং এই মহতী কাজে আমাদের সহযোগিতা সর্বদা অব্যাহত থাকবে।”

পুরস্কার বিতরণ ও মোনাজাত
পুরো রমজান মাসজুড়ে পবিত্র কুরআনের সাথে কাটানো ১২০ জন শিক্ষার্থীর মাঝে সমাপনী দিনে আকর্ষণীয় পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। উপস্থিত অতিথিরা শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন। পরিশেষে, প্রবাসীদের দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।