
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নে চুরি প্রতিরোধ এবং চোরচক্রের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ রবিবার (১৭ মে) উপজেলার কালারাইবিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের সড়কে ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদের স্থানীয় ইউপি সদস্য ও সর্বস্তরের জনগণের যৌথ উদ্যোগে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। তীব্র রোদ উপেক্ষা করে চোরদের উৎপাতে অতিষ্ঠ তিনটি গ্রামের প্রায় পাঁচ শতাধিক নারী-পুরুষ ও স্থানীয় সচেতন নাগরিক এই মানববন্ধনে অংশ নেন।

ঘণ্টাব্যাপী চলা এই মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা এলাকায় চুরি বন্ধ করতে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন শ্লোগান সংবলিত প্লেকার্ড ও ব্যানার প্রদর্শন করেন।
মানববন্ধন শেষে আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় সভাপতিত্ব করেন ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. ফারুক মিয়া। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন,

”চোর এবং অপরাধীদের কোনো দল বা পরিচয় নেই। আমরা আমাদের এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং অন্যায় কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আজ একজোট হয়ে মাঠে নেমেছি। গ্রামবাসী এখন চোরচক্রের কারণে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। প্রশাসনের অবিলম্বে হস্তক্ষেপ কামনা করছি এবং প্রশাসনের সহায়তায় দোষীদের কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই সামাজিক আন্দোলন চলবে।”
অনুষ্ঠানে সংহতি প্রকাশ করে ইসলামপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম বলেন,

”চুরি ও ডাকাতির মতো অপরাধগুলো স্থানীয় শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য এখন মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদি অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে কার্যকর শাস্তি দেওয়া না হয়, তবে সাধারণ মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবে। আমরা এলাকায় স্থায়ী শান্তি চাই।”
অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ইউপি সদস্য মো. শাহনেওয়াজ। তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন,

”আমরা এমন একটি সমাজ গড়তে চাই যেখানে চোরেরা যেন আর কোনোদিন সাধারণ মানুষের রক্তঘাম ছড়ানো সম্পদ চুরি করার সাহস না পায়। অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিই একমাত্র সমাধান।”

সভায় স্থানীয়দের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন মো. সবুজ মিয়া, আব্দুল্লা মিয়া এবং প্রবাসী সোয়াইব হোসেন। বক্তারা বলেন, স্থানীয় জনগণ যদি সচেতন এবং ঐক্যবদ্ধ থাকে, তবে যেকোনো অপরাধ দমন করা সম্ভব। তবে সাধারণ মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত উদ্যোগকে সফল করতে হলে প্রশাসনের আন্তরিক সহযোগিতা ও কঠোর ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি।
মানববন্ধন ও সমাবেশ শেষে অংশগ্রহণকারীরা শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রেখে কর্মসূচি সমাপ্ত করেন। তবে এই আন্দোলন ও মানববন্ধনের নেপথ্যে একটি পূর্ববর্তী ঘটনার সূত্রপাত রয়েছে বলে জানা গেছে।
এই বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে কমলগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) গোলাম মোস্তফা জানান,
”কিছুদিন আগে ওই এলাকায় একটি চুরির ঘটনা ঘটেছিল। চুরির ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা কয়েকজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে এবং স্থানীয় গ্রামশালিসের (সালিশ বৈঠক) মাধ্যমে তাদের মারধর করে। পরবর্তীতে, যারা মারধরের শিকার হয়েছে, তারা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অভিযোগে থানায় একটি পাল্টা লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। মূলত এই অভিযোগ এবং সামগ্রিক চুরির ঘটনার রেশ ধরেই আজ স্থানীয় জনগণ এই প্রতিবাদ ও মানববন্ধনের আয়োজন করেছে।”

এলাকাবাসীর দাবি, চোর সিন্ডিকেটের সদস্যরা পার পেয়ে যেতে এবং গ্রামবাসীকে হয়রানি করতেই উল্টো অভিযোগের নাটক সাজিয়েছে। তারা অবিলম্বে প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেফতারের দাবি জানান। অন্যদিকে পুলিশ জানিয়েছে, এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ তৎপর রয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।