মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের ইছাছড়া খাসিয়া পুঞ্জিতে আদিবাসী দম্পতির ১,২০০-এর বেশি পরিপক্ব পানগাছ কেটে ফেলার ঘটনায় ফুঁসে উঠেছে স্থানীয় আদিবাসী সমাজ। এই বর্বরোচিত ঘটনার প্রতিবাদে এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে আজ বৃহস্পতিবার কুলাউড়া শহরে বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
কুবরাজ আন্তঃপুঞ্জি উন্নয়ন সংগঠন, খাসি স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (কেএসইউ), বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম এবং বৃহত্তর সিলেট আদিবাসী অধিকার সুরক্ষা নাগরিক কমিটির যৌথ উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালিত হয়। শহরের প্রধান সড়কে আয়োজিত এই মানববন্ধনে কয়েক শতাধিক আদিবাসী নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
কুবরাজ আন্তঃপুঞ্জি উন্নয়ন সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি প্রত্যুষ আসাক্রার সভাপতিত্বে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “পানগাছ খাসিয়া সম্প্রদায়ের একমাত্র জীবিকা। এই গাছগুলো কেটে ফেলা মানে একটি পরিবারকে তিলে তিলে মেরে ফেলা। এটি কেবল সম্পদ ধ্বংস নয়, বরং একটি জনগোষ্ঠীর অস্তিত্বের ওপর আঘাত।”
মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন:
বক্তারা অভিযোগ করেন, গত ২৮ মার্চ গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে অনন্ত ও সরিস লামারাই দম্পতির পানের জুমে হামলা চালায়। এতে প্রায় ১২ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় না আনলে জেলাজুড়ে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।
বিক্ষোভ মিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। এরপর আদিবাসী নেতারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মাধ্যমে প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন। তাদের প্রধান দাবিগুলো হলো:
১. দোষীদের দ্রুত চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি।
২. ক্ষতিগ্রস্ত দম্পতিকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান।
৩. আদিবাসী পানচাষিদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
৪. খাসিয়াদের প্রথাগত ভূমি অধিকার রক্ষা।
৫. পুঞ্জি এলাকায় নিয়মিত পুলিশি টহল জোরদার করা।
উল্লেখ্য, গত ২৮ মার্চ রাতে ইছাছড়া পুঞ্জিতে এই গাছ নিধনের ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী দম্পতি জানান, পানগাছগুলো তাদের আয়ের একমাত্র উৎস ছিল। এই ঘটনার পর থেকে ইছাছড়াসহ আশপাশের খাসিয়া পুঞ্জিগুলোতে আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত মূল অভিযুক্তরা ধরা না পড়ায় ক্ষোভ বাড়ছে।