• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০২:১৫ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
চেকপোস্ট ও টহল ফাঁকি দিয়ে রাতে সাবাড় ১৪ গাছ, নেপথ্যে কারা? ​জুয়েল আহমদ জুলি ছাত্রলীগের কর্মী নন, ছাত্রদলের স্বপদেই বহাল: মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রদল স্মার্টফোন আসক্তি দূর করে ক্রীড়ামুখী প্রজন্ম গড়ার প্রত্যয়ে আসছে ‘কমলগঞ্জ ইনডোর স্টেডিয়াম ​আলীনগর ১নং ওয়ার্ডে মেম্বার পদপ্রার্থী আবুল হোসেনের প্রশংসনীয় উদ্যোগ, নিজস্ব তহবিলে সড়ক মেরামত মৌলভীবাজারে কালের কণ্ঠের সাংবাদিক সালাউদ্দিন শুভর চরিত্রহননে এআই-এর অপব্যবহার, তীব্র প্রতিবাদ ​ক্লাসে শিক্ষিকার ঘুম, কমলগঞ্জে বিদ্যালয়জুড়ে অনিয়মের অভিযোগ কমলগঞ্জে মুজাহিদ মঞ্জিল থেকে ৫ বিষধর কোবরার বাচ্চা উদ্ধার কমলগঞ্জে তরুণীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার, চিরকুট নিয়ে রহস্য হাটহাজারীতে ফায়ারিং অনুশীলনে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা: ২ সেনাসদস্য নিহত, সেনাকর্তাসহ আহত ২ শমশেরনগরে ভ্রাম্যমাণ আদালত: লাইসেন্সহীন রেস্টুরেন্ট ও আইসক্রিম ফ্যাক্টরিকে দেড় লাখ টাকা জরিমানা

​অবহেলিত ডবলছড়া: ৩ কিমি রাস্তার জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা

আহমেদ নাজিম / ২১২ Time View
Update : বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬

395

৩ কিলোমিটারের ‘মরণফাঁদ’: শিক্ষা যখন জীবনের ঝুঁকি

​কমলগঞ্জে স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও অবহেলিত ডবলছড়া; ৩শ শিক্ষার্থীর বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে একমাত্র বাধা দুর্গম সড়ক

​

​মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শমসেরনগর ইউনিয়নের ডবলছড়া চা বাগান। স্বাধীনতার দীর্ঘ সময় পার হলেও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি এই জনপদে। এখানকার প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থীর প্রতিদিনের জীবন কাটে এক চরম অনিশ্চয়তায়। দুর্গম পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথ আর জীবনের ঝুঁকি নিয়েই তাদের পৌঁছাতে হয় বিদ্যালয়ে। ডবলছড়া থেকে কালিছালি আবাসন পর্যন্ত মাত্র ৩ কিলোমিটার সড়কের বেহাল দশায় এখন চরম ক্ষোভ ও হতাশায় দিন কাটছে চা বাগানের সাত শতাধিক পরিবারের।

​শিক্ষার পথে দুর্গম বাধা

​সরেজমিনে দেখা যায়, ডবলছড়া এলাকায় বিকল্প কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না থাকায় শিক্ষার্থীদের একমাত্র ভরসা চিৎলিয়া জনকল্যাণ উচ্চ বিদ্যালয়। বাগান থেকে স্কুলে পৌঁছাতে পাড়ি দিতে হয় উঁচু-নিচু টিলা আর খানাখন্দে ভরা প্রায় ৩ কিলোমিটার দুর্গম পথ। বর্ষাকালে এই পথ হয়ে ওঠে আরও ভয়াবহ।

​বাগানের শিক্ষার্থী বাদল সাঁওতাল

ও শিলা নাইডু তাদের কষ্টের কথা জানিয়ে বলেন:

​”আমাদের স্কুলে যাওয়াটা একটা বড় সংগ্রাম। কোনো পাকা রাস্তা নেই। পাহাড়ি পথে হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত হয়ে পড়ি। হঠাৎ বৃষ্টি এলে মাথা গোঁজার ঠাঁই পর্যন্ত নেই, ভিজে ভিজেই ক্লাসে যেতে হয়। এই রাস্তা দিয়ে যেতে আমাদের খুব ভয় লাগে।”

 

​স্থবির জনজীবন, আতঙ্কে অভিভাবক

​যাতায়াত ব্যবস্থা আদিম রয়ে যাওয়ায় এখানকার প্রায় সাতশ পরিবারের জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে। ডবলছড়া বাগান পঞ্চায়েতের অর্থ সম্পাদক সজল বৈদ্য বলেন, “আমাদের এলাকায় প্রায় তিনশত শিক্ষার্থী রয়েছে। এই ৩ কিলোমিটার রাস্তা চলাচলের একদম অনুপযোগী। ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তার কারণে ছেলেমেয়েরা বিদ্যালয়ে যেতে ভয় পায়। আমরা বছরের পর বছর একটি ভালো রাস্তার অপেক্ষায় আছি।”

​পল্লী চিকিৎসক আব্দুল কাইয়ুম মানবিক দিকটি তুলে ধরে জানান, চিকিৎসা সেবা দিতে গিয়ে তিনি প্রায়ই শিক্ষার্থীদের এই করুণ চিত্র দেখেন। শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে তিনি মনে করেন।

​কর্তৃপক্ষের ভাষ্য ও আইনি জটিলতা

​চিৎলিয়া জনকল্যাণ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শাহিন মিয়া বলেন, “শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন জীবন বাজি রেখে বিদ্যালয়ে আসে। শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে এই রাস্তাটি দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন।”

​রাস্তাটি কেন সংস্কার হচ্ছে না—এমন প্রশ্নে শমসেরনগর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা আইসিটি অফিসার মো. রকিবুল হক জানান, রাস্তাটি বন বিভাগের জায়গার অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় কিছু আইনি সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবে তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে আলাপ করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের চেষ্টা করবেন।

​এলাকাবাসীর দাবি

​স্থানীয়দের মতে, বন বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগই পারে এই সমস্যার সমাধান করতে। মাত্র ৩ কিলোমিটার সড়ক নির্মিত হলে পাল্টে যাবে তিন শতাধিক শিক্ষার্থীর ভাগ্য এবং কয়েক হাজার মানুষের জীবনযাত্রার মান। এখন শুধু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টির অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন ডবলছড়া চা বাগানের অবহেলিত মানুষগুলো।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd