
আজ ১৭ মার্চ, স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানের ১০৬তম জন্মবার্ষিকী। ১৯২০ সালের এই দিনে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তবে বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার সম্পূর্ণ ভিন্ন ও সাদামাটা আবহে কাটছে দিবসটি।
শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক জীবনের শুরু হয়েছিল কৈশোরেই। ছাত্রাবস্থাতেই অন্যায় ও শোষণের বিরুদ্ধে আপসহীন ভূমিকার কারণে তাকে কারাবরণ করতে হয়েছিল। সময়ের পরিক্রমায় তিনি হয়ে ওঠেন স্বাধিকার আন্দোলনের মূল প্রাণপুরুষ। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে তার দেওয়া ঐতিহাসিক ভাষণ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের মানুষকে মুক্তির সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়তে উদ্বুদ্ধ করেছিল।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হওয়ার আগে তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। পরবর্তীতে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট এক সামরিক অভ্যুত্থানে সপরিবারে নিহত হন তিনি।
বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী উদযাপনের ধরনে গত কয়েক বছরে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে এই দিনটি অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে এবং সরকারি ছুটির মাধ্যমে ‘জাতীয় শিশু দিবস’ হিসেবে পালন করা হতো।
তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতায় বড় পরিবর্তন আসে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গত দুই বছরের মতো এবারও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কোনো বড় ধরনের আয়োজন বা সরকারি ছুটি ছিল না।
আজকের দিনটিতে টুঙ্গিপাড়ায় তাঁর সমাধিতে কিংবা রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে আগের মতো রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ভিড় চোখে পড়েনি। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ফলে অনেকটা নিরুত্তাপভাবেই কাটছে এক সময়ের অন্যতম আলোচিত এই দিবসটি। ব্যক্তিগত পর্যায়ে বা ঘরোয়া পরিবেশে কেউ কেউ শ্রদ্ধা জানালেও, রাজপথে বা রাষ্ট্রীয়ভাবে দিবসটি ঘিরে কোনো বিশেষ তৎপরতা দেখা যায়নি।