• বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ০৩:৩১ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
গকুলনগরে মেম্বার পদপ্রার্থী পুতুল মিয়ার উদ্যোগে বেহাল রাস্তা ও কালভার্ট সংস্কার কাজ চলমান বিশ্বকাপের আগে গর্জে উঠল স্কালোনির দল, আইসল্যান্ডকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা বেওয়ারিশ’ বলেই কি শেষ যাত্রা ময়লার গাড়িতে? মৌলভীবাজারে এক নির্মম বাস্তবতার গল্প সরকারি বরাদ্দের অপেক্ষা না করে নিজ অর্থায়নে রাস্তা সংস্কার করলেন মেম্বার পদপ্রার্থী পুতুল মিয়া কমলগঞ্জে নিরাপদ পণ্য ও প্রবাসীদের আস্থার ঠিকানা হয়ে উঠছে হালাল ডেইলি শপ ​কমলগঞ্জে নবাগত ওসির সাথে ‘নিসচা’ উপজেলা শাখার সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় ​শ্রীমঙ্গলে বসতঘরে চুরি: নগদ টাকা ও সরঞ্জামসহ গ্রেপ্তার ৫ কমলগঞ্জে ছাত্রশিবিরের জ্যৈষ্ঠ মাসিক ফলচক্র ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা সম্পন্ন কমলগঞ্জে পূর্ব শত্রুতার জেরে দফায় দফায় নৃশংস হামলা: প্রথমে দোকানে ও পরে হাসপাতালের ভেতরে ঢুকে দুই ভাইকে কোপানোর অভিযোগ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছে ধাক্কা: কমলগঞ্জে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থীর অকাল মৃত্যু

​টাকা দিয়ে পড়িয়ে নার্স বানালেন স্বামী, চাকরি পেয়েই ডিভোর্স! অতঃপর অনশনে ফিরল ঘর ভাঙা সংসার

আহমেদ নাজিম / ২০৩ Time View
Update : রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬

284

মাদারীপুরে ভালোবাসার জয়: অনশন করে স্ত্রীকে ফিরে পেলেন যুবক

​মাদারীপুরের ডাসার উপজেলায় দীর্ঘ ১০ বছরের প্রেম ও সংসারের টানাপোড়েন শেষে অবশেষে ভালোবাসারই জয় হয়েছে। স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে আমরণ অনশনের পর প্রিয়তমা স্ত্রী অনুশীলা বাড়ৈকে ফিরে পেয়েছেন যুবক বিশ্বজিৎ পাত্র। গত শনিবার (৪ এপ্রিল) দিবাগত রাতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে এক সালিশি বৈঠকের মাধ্যমে এই দম্পতির পুনর্মিলন ঘটে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট

​স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নের আলিসাকান্দি গ্রামের বিপ্রদাশ পাত্রের ছেলে বিশ্বজিৎ পাত্রের সঙ্গে প্রতিবেশী মনোতোষ বাড়ৈর মেয়ে অনুশীলা বাড়ৈর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে প্রায় এক দশক আগে। দীর্ঘ ছয় বছরের প্রেমের পর চার বছর আগে তারা পারিবারিকভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের পর থেকে বিশ্বজিৎ তার সমস্ত উপার্জিত অর্থ দিয়ে স্ত্রীকে নার্সিং পড়ার খরচ জোগান। বর্তমানে অনুশীলা ঢাকার মোহাম্মদপুরের সিকদার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নার্স হিসেবে কর্মরত।

বিচ্ছেদ ও অনশন

​অভিযোগ ছিল, নার্স হিসেবে চাকরি পাওয়ার পর থেকেই অনুশীলার আচরণে পরিবর্তন আসতে শুরু করে। একপর্যায়ে তিনি বিশ্বজিতের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন এবং তাকে না জানিয়েই আদালতের মাধ্যমে বিবাহবিচ্ছেদের (ডিভোর্স) নোটিশ পাঠান। প্রিয়তমার এমন সিদ্ধান্তে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন বিশ্বজিৎ।

​অবশেষে স্ত্রীর অধিকার ফিরে পেতে গত ৩১ মার্চ (মঙ্গলবার) সন্ধ্যা থেকে অনুশীলার বাবার বাড়িতে টানা ২৪ ঘণ্টা অনশন শুরু করেন বিশ্বজিৎ। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও আলোচনার ঝড় ওঠে। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের আশ্বাসে তিনি সাময়িকভাবে অনশন ভঙ্গ করেন।

মিলনমেলায় রূপ নিলো সালিশ বৈঠক

​শনিবার রাতে আলিসাকান্দি গ্রামে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উদ্যোগে এক সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ আলোচনার পর অনুশীলা নিজের ভুল বুঝতে পারেন এবং পুনরায় বিশ্বজিতের সাথে সংসার করার অঙ্গীকার করেন। উপস্থিত এলাকাবাসী জানান, বিশ্বজিতের ত্যাগের বিষয়টি সবার সামনে উঠে আসায় অনুশীলা তার জেদ ত্যাগ করে পুনরায় স্বামীর হাত ধরেন। রাত ১১টার দিকে এক আবেগঘন পরিবেশে বিশ্বজিৎ তার স্ত্রীকে নিয়ে পুনরায় নিজ ঘরে ফেরেন।

বিশ্বজিতের প্রতিক্রিয়া

​স্ত্রীকে ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত বিশ্বজিৎ পাত্র বলেন,

​“আমার স্ত্রীর পেছনে আমার জীবনের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ ছিল আমার ভালোবাসা ও শ্রম। আমাদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল, কিন্তু আজ সব কিছুর অবসান হয়েছে। যারা এই কঠিন সময়ে আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং আমাদের সংসারটি পুনরায় জোড়া লাগিয়ে দিয়েছেন, তাদের প্রতি আমি আজীবন কৃতজ্ঞ।”

 

এলাকাবাসীর স্বস্তি

​স্থানীয় নবগ্রাম ইউনিয়নের বাসিন্দারা এই মীমাংসায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা জানান, একটি সুন্দর সম্পর্কের এমন বিচ্ছেদ কাম্য ছিল না। সামাজিক চাপের চেয়েও বড় হয়ে দাঁড়িয়েছিল বিশ্বজিতের অকৃত্রিম ভালোবাসা। এই মিলনমেলার মধ্য দিয়ে ডাসার এলাকায় একটি সুন্দর উদাহরণ সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd