
মৌলভীবাজার শহরের সার্কিট হাউস এলাকায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক কিশোরকে প্রকাশ্যে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার আপন বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে। নিহত কিশোরের নাম তামিম আহমদ (১৬)। বুধবার (১১ মার্চ) সন্ধ্যার ঠিক আগে টিবি হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড ঘটে।
নিহত তামিম ওই এলাকার ডাব বিক্রেতা শাহেদ আলীর আট সন্তান-সন্ততির মধ্যে সবার ছোট। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সূত্রপাত হয় তামিমের ভাতিজাকে (হানিফ মিয়ার ছেলে) কেন্দ্র করে। শিশুটি মিথ্যা বলায় চাচা হিসেবে তামিম তাকে শাসন করে একটি চড় মারে। বিষয়টি শিশুটি তার বাবা হানিফ মিয়াকে (৩৫) জানালে তিনি প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।
এক পর্যায়ে হানিফ তার ছোট ভাই তামিমকে ডেকে এনে শার্টের কলার চেপে ধরেন এবং কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই গলায় ছুরিকাঘাত করেন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে ঘটনাস্থলেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে কিশোর তামিম।
নিহতের বড় বোন তানিয়া বেগম জানান, অভিযুক্ত হানিফ মিয়ার উগ্র মেজাজ ও অপরাধপ্রবণতা দীর্ঘদিনের। মাত্র ছয় মাস আগেই তিনি তার অন্য এক ভাইয়ের হাত কেটে ফেলার দায়ে দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলেন। জেল থেকে বের হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই আবারও এমন নৃশংস কাণ্ড ঘটালেন তিনি। নিহত তামিম তার বাবার সাথে ডাব বিক্রির কাজে সহযোগিতা করত এবং পরিবারের সবার কাছে অত্যন্ত আদরের ছিল।
মৌলভীবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানান:
”খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত হানিফ মিয়াকে গ্রেফতারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
হাসপাতাল মর্গের সামনে এখন শুধুই কান্নার রোল। বৃদ্ধ বাবা শাহেদ আলী ও মা শাহানা বেগমের গগনবিদারী আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠেছে হাসপাতালের বাতাস। পরিবারের কনিষ্ঠ সদস্যকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ স্বজন ও এলাকাবাসী। পুরো এলাকায় এখন শোক ও চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।