নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
প্রকাশিত: ৬ মার্চ, ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও বৈশ্বিক সরবরাহ সংকটের জপে দেশে জ্বালানি তেলের সম্ভাব্য ঘাটতি মোকাবিলায় কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। ফিলিং স্টেশনগুলো থেকে গ্রাহক পর্যায়ে তেল বিক্রির পরিমাণ নির্দিষ্ট করে একটি জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে সংস্থাটি। এখন থেকে যানবাহন ভেদে দৈনিক একটি নির্দিষ্ট সীমার বেশি তেল কেনা যাবে না।
শুক্রবার (৬ মার্চ) এক বিজ্ঞপ্তিতে বিপিসি জানায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্যপ্রাচ্যে শুরু হওয়া পাল্টাপাল্টি হামলার প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। দেশের ৯৫ শতাংশ তেল আমদানিনির্ভর হওয়ায় উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মানুষের মাঝে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, যার ফলে ফিলিং স্টেশনগুলোতে উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই অতিরিক্ত কেনাকাটা ও মজুত ঠেকাতেই রেশনিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
বিপিসির নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী যানবাহনের ধরন অনুযায়ী দৈনিক তেলের সীমা নিম্নরূপ:
|
যানবাহনের ধরন |
তেলের সীমা (দৈনিক) |
তেলের ধরন |
|---|---|---|
|
মোটরসাইকেল |
২ লিটার |
পেট্রল/অকটেন |
|
ব্যক্তিগত গাড়ি (কার) |
১০ লিটার |
পেট্রল/অকটেন |
|
এসইউভি (জিপ) ও মাইক্রোবাস |
২০ – ২৫ লিটার |
পেট্রল/অকটেন |
|
পিকআপ ও লোকাল বাস |
৭০ – ৮০ লিটার |
ডিজেল |
|
দূরপাল্লার বাস ও ট্রাক |
২০০ – ২২০ লিটার |
ডিজেল
|
নতুন নিয়মে তেল কেনার প্রক্রিয়া আরও কঠোর করা হয়েছে। বিপিসি জানিয়েছে, এখন থেকে ফিলিং স্টেশন থেকে তেল নেওয়ার সময় তেলের ধরন, পরিমাণ ও দাম উল্লেখ করে রসিদ সংগ্রহ করতে হবে। পরবর্তীতে তেল কিনতে এলে আগের রসিদ দেখাতে হবে। ডিলাররা এই রসিদ পরীক্ষা করে তবেই নতুন করে তেল সরবরাহ করবেন।
শুক্রবার ছুটির দিনে রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে তেলের জন্য তীব্র ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, পরীবাগের মেঘনা মডেল সার্ভিস সেন্টার থেকে শাহবাগ মেট্রোরেল স্টেশন পর্যন্ত মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কারের দীর্ঘ লাইন। দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা নিয়ে চালকদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জ্বালানি তেলের মজুত নিয়ে ছড়ানো বিভ্রান্তিতে কান না দিতে অনুরোধ করেছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। বিপিসি জানিয়েছে, দেশে বর্তমানে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আমদানির নিয়মিত সূচি বজায় রাখা হয়েছে এবং রেল ওয়াগনের মাধ্যমে সারাদেশে তেল পাঠানো হচ্ছে। দ্রুতই পর্যাপ্ত ‘বাফার স্টক’ গড়ে উঠবে বলে আশা করছে সংস্থাটি।
মূলত হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার আশঙ্কায় তেলের বিশ্ববাজার অস্থির হয়ে ওঠায় আগাম সতর্কতা হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।