সন্তানের পিতৃপরিচয় নির্ধারণে পুলিশ কনস্টেবল ও শিশুর ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ
মৌলভীবাজারে এক শিশুর পিতৃপরিচয় ও সামাজিক স্বীকৃতির দাবিতে দায়ের করা মামলায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে আগামী মঙ্গলবার ভুক্তভোগী নারী, তার শিশু সন্তান এবং অভিযুক্ত পুলিশ কনস্টেবল মৃণাল কান্তি দাশের ডিএনএ পরীক্ষা করবে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, পিবিআই মৌলভীবাজার জেলা কার্যালয় এই তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আগামী মঙ্গলবার তিনজনেরই ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হবে। এই পরীক্ষার বৈজ্ঞানিক ফলাফলের ওপর ভিত্তি করেই সন্তানের পিতৃত্বের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে, যা মামলার তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বড় প্রমাণ হিসেবে গণ্য হবে।
আদালত ও মামলা সূত্রে জানা যায়, হবিগঞ্জ জেলার আজমিরীগঞ্জ থানায় কর্মরত পুলিশ কনস্টেবল (যিনি পূর্বে মৌলভীবাজারের রাজনগর থানায় মুন্সি হিসেবে কর্মরত ছিলেন) মৃণাল কান্তি দাশের বিরুদ্ধে মৌলভীবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী এক নারী। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে বিষয়টি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য পিবিআই মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেন।
মামলার এজাহারে ভুক্তভোগী নারী উল্লেখ করেন, অভিযুক্ত মৃণাল কান্তি দাশ বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। একপর্যায়ে ওই নারী গর্ভবতী হন এবং একটি সন্তান প্রসব করেন। তবে সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য শিশুটিকে নিজের সন্তান হিসেবে স্বীকার করতে অস্বীকৃতি জানান এবং ভুক্তভোগী নারীর সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। দীর্ঘদিন ধরে সন্তানের আইনি অধিকার ও সামাজিক স্বীকৃতি আদায়ের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে অবশেষে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন।
পিবিআই-এর তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আদালতের নির্দেশনার পর অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে মামলাটি তদন্ত করা হচ্ছে। মা, শিশু ও অভিযুক্ত—এই তিনজনের ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফল, সংগৃহীত সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং অন্যান্য পারিপার্শ্বিক তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে একটি বস্তুনিষ্ঠ তদন্ত প্রতিবেদন নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আদালতে দাখিল করা হবে।