মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার সিন্দুরখান ইউনিয়নের জানাউড়া গ্রামে এক বসতবাড়ির রান্নাঘর থেকে একটি বিশালাকৃতির বিষধর খৈয়া গোখরো সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে সাপটি উদ্ধারের পর এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে।
জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুর আনুমানিক ১টা ২০ মিনিটের দিকে জানাউড়া গ্রামের বাসিন্দা তারেক আহমেদের পরিবারের সদস্যরা রান্নাঘর পরিষ্কার করতে যান। এসময় হঠাৎ একটি ইঁদুরের গর্ত থেকে বিকট ফোঁসফোঁস শব্দ শুনতে পান তারা। গর্তের ভেতর ফণা তুলে থাকা বড় একটি সাপ দেখে পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কে চিৎকার শুরু করেন।
বাড়ির মালিক তারেক আহমেদ জানান, সাপের উপস্থিতি বুঝতে পেরে তিনি প্রথমে সেটি মারার চেষ্টা করেছিলেন। তবে সাপটির আক্রমণাত্মক ভঙ্গি দেখে তিনি পিছু হটেন। মুহূর্তের মধ্যেই পুরো এলাকায় সাপ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সংবাদকর্মী আল আমিনের মাধ্যমে খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল ও পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ। তারা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং উদ্ধার কাজ শুরু করেন।
প্রায় ২০ মিনিটের এক শ্বাসরুদ্ধকর প্রচেষ্টার পর গর্তের ভেতর থেকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সাপটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়। এসময় উৎসুক এলাকাবাসী ভিড় জমিয়ে এই রোমাঞ্চকর উদ্ধার অভিযান প্রত্যক্ষ করেন।
বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, উদ্ধারকৃত সাপটি অত্যন্ত বিষধর প্রজাতির খৈয়া গোখরো। এটি সাধারণত গভীর জঙ্গলে থাকলেও খাদ্যের সন্ধানে অনেক সময় লোকালয়ে চলে আসে।
উদ্ধারের পর সাপটিকে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের শ্রীমঙ্গল রেঞ্জ অফিসে হস্তান্তর করা হয়েছে। শ্রীমঙ্গল রেঞ্জ কর্মকর্তা কাজী মোঃ নাজমুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন:
”সাপটি বর্তমানে আমাদের হেফাজতে রয়েছে। আমরা জন সাধারণকে অনুরোধ করবো, লোকালয়ে বিষধর সাপ বা বন্যপ্রাণী দেখা গেলে আতঙ্কিত হয়ে সেটিকে না মেরে যেন দ্রুত বন বিভাগ বা প্রশিক্ষিত উদ্ধারকর্মীদের খবর দেওয়া হয়। এতে প্রাণীর জীবন বাঁচে এবং মানুষের জীবনের ঝুঁকিও কমে।”
সাপটিকে পর্যবেক্ষণ শেষে শ্রীমঙ্গলের সংরক্ষিত বনাঞ্চলে অবমুক্ত করা হবে বলে বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।