• মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৩২ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
কমলগঞ্জে মুজাহিদ মঞ্জিল থেকে ৫ বিষধর কোবরার বাচ্চা উদ্ধার কমলগঞ্জে তরুণীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার, চিরকুট নিয়ে রহস্য হাটহাজারীতে ফায়ারিং অনুশীলনে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা: ২ সেনাসদস্য নিহত, সেনাকর্তাসহ আহত ২ শমশেরনগরে ভ্রাম্যমাণ আদালত: লাইসেন্সহীন রেস্টুরেন্ট ও আইসক্রিম ফ্যাক্টরিকে দেড় লাখ টাকা জরিমানা ​হামহাম ঝরনার সিতাপে অজ্ঞাত লাশ: নেপথ্যে পাহাড়ি ঢল নাকি অন্য কিছু? কমলগঞ্জে ইউপি সদস্যের ভাতা স্থগিত: চেয়ারম্যানকে হেয় করতে স্বামীর অপপ্রচারের অভিযোগ চা শ্রমিকনেত্রী গীতা কানু গ্রেপ্তার, বাগানে বাগানে থমথমে অবস্থা ​মৌলভীবাজারে যৌন হয়রানি থেকে বাঁচতে চলন্ত টমটম থেকে লাফ, কলেজছাত্রী আহত শমশেরনগরে গ্যাস সংকটে চালকদের চরম ভোগান্তি: সড়ক অবরোধের পর বিকেল ৫টায় সরবরাহ স্বাভাবিক ​স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি: আজই চূড়ান্ত ভোটার তালিকা

​আবাসিক মহিলা মাদ্রাসার প্রয়োজনীয়তা ও নিরাপত্তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন

আহমেদ নাজিম / ৬৮ Time View
Update : রবিবার, ৩ মে, ২০২৬

120

পর্দার আড়ালে অনিরাপদ শৈশব: আবাসিক মহিলা মাদ্রাসায় লালসার শিকার ছাত্রীরা

​দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে ওঠা আবাসিক মহিলা মাদ্রাসাগুলোর যৌক্তিকতা ও নিরাপত্তা নিয়ে বর্তমানে জনমনে তীব্র প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে এই প্রতিষ্ঠানগুলোর পর্দার আড়ালে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও নৈতিকতা নিয়ে বাড়ছে চরম উদ্বেগ। সচেতন মহল ও অভিভাবকদের একাংশ দাবি তুলেছেন, এসব প্রতিষ্ঠানে আবাসিক ব্যবস্থার কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই; বরং দিনের নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত পাঠদানই শিক্ষার্থীদের জন্য যথেষ্ট।

​গণ্ডিবদ্ধ জীবনে মানসিক বিকাশে বাধা

​অনেক শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও অভিভাবকদের মতে, নারী শিক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের ২৪ ঘণ্টা একটি নির্দিষ্ট গণ্ডিতে আটকে রাখার কোনো শক্তিশালী যুক্তি নেই। তাদের দাবি, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত নিবিড় পাঠদানই সিলেবাস শেষ করার জন্য যথেষ্ট। আবাসিক ব্যবস্থার ফলে শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ সময় পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন থাকছে, যা তাদের স্বাভাবিক মানসিক বিকাশে স্থায়ী নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পরিবারহীন এই পরিবেশ শিশুদের সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ শেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করছে।

​’নিরাপদ আশ্রয়ের’ আড়ালে ভয়াবহতা

​সম্প্রতি বিভিন্ন মহলে অভিযোগ উঠেছে যে, কঠোর গোপনীয়তা ও পর্যাপ্ত তদারকির অভাবে কিছু আবাসিক মহিলা মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীরা যৌন লালসা ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম বাইরে থেকে পর্যবেক্ষণ করা অত্যন্ত কঠিন হওয়ায় অপরাধীরা সহজেই পার পেয়ে যাচ্ছে। ভুক্তভোগীদের বরাত দিয়ে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘নিরাপদ আশ্রয়’ মনে করে অভিভাবকরা সন্তানদের মাদ্রাসায় দিলেও সেখানে তারা বহুমুখী শারীরিক ও মানসিক ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

​”সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ক্লাস করলে যেখানে শিক্ষা অর্জন সম্ভব, সেখানে আবাসিক ব্যবস্থার মাধ্যমে খরচ বৃদ্ধি ও ঝুঁকি বাড়ানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।” — অভিভাবক প্রতিনিধি

 

​প্রশাসনিক নজরদারির অভাব

​আবাসিক মাদ্রাসাগুলোতে যথাযথ প্রশাসনিক নজরদারি না থাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিস্তার ঘটছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মৌলভীবাজারসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, আবাসিক ব্যবস্থার পরিবর্তে অনাবাসিক বা ডে-শিফট ব্যবস্থা চালু করলে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা কয়েক গুণ বেড়ে যাবে। এতে শিক্ষার্থীরা দিনের বেলা পড়াশোনা শেষ করে বিকেলে পরিবারের কাছে ফিরে যেতে পারবে, যা তাদের সর্বোচ্চ সুরক্ষা নিশ্চিত করবে।

​সময়ের দাবি: কঠোর হস্তক্ষেপ

​শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত জ্ঞান অর্জন ও নৈতিক চরিত্রের গঠন। কিন্তু যদি সেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশই অনিরাপদ হয়ে ওঠে, তবে তা সমাজের জন্য এক অশনিসংকেত। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন:

  • ​আবাসিক মহিলা মাদ্রাসাগুলোর প্রয়োজনীয়তা জরুরি ভিত্তিতে পুনঃমূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
  • ​প্রতিটি মাদ্রাসায় প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করতে হবে।
  • ​শিক্ষার্থীদের সুরক্ষায় শিক্ষা বোর্ড ও স্থানীয় প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।

​নিরাপদ শৈশব এবং সুস্থ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে পর্দার আড়ালের এই অন্ধকার দূর করা না গেলে নারী শিক্ষার মূল লক্ষ্যই ব্যাহত হবে বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদগণ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd