
মৌলভীবাজার: বাংলাদেশ পুলিশে ‘ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি)’ পদে জনবল নিয়োগের লক্ষে মৌলভীবাজারে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আজ শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) ভোর থেকেই মৌলভীবাজার পুলিশ লাইন্স মাঠে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা শত শত চাকরিপ্রার্থীর উপস্থিতিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার অঙ্গীকার নিয়ে সকাল ৮টা থেকে শুরু হয় প্রাথমিক বাছাই প্রক্রিয়া।

নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি ও মৌলভীবাজার জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) জনাব মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন মহোদয়ের সরাসরি নেতৃত্বে এই নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত এই বোর্ড প্রথম দিনেই প্রার্থীদের শারীরিক যোগ্যতা ও নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যেন কোনো ধরনের অনিয়ম বা দালাল চক্রের প্রভাব না থাকে, সে লক্ষ্যে পুরো মাঠ জুড়ে নেয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

আজকের কার্যক্রমে মূলত প্রার্থীদের উচ্চতা, বুকের মাপ এবং ওজন পরীক্ষা করা হয়। একই সাথে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র, জাতীয় পরিচয়পত্রসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথিপত্রের মূল কপি যাচাই করা হয়। প্রাথমিক এই বাছাইয়ে যারা উত্তীর্ণ হবেন, তারাই পরবর্তী ধাপের শারীরিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন।

নিয়োগ কমিটি সূত্রে জানা গেছে, আগামীকাল ২৫ এপ্রিল (শনিবার) অনুষ্ঠিত হবে প্রাথমিক বাছাইয়ের দ্বিতীয় ধাপ। এই ধাপে প্রার্থীদের শারীরিক সক্ষমতা যাচাইয়ের জন্য ‘ফিজিক্যাল এন্ডুরেন্স টেস্ট (PET)’ নেওয়া হবে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ইভেন্টগুলো হলো:


নিয়োগ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে মাঠে উপস্থিত থেকে তদারকি করছেন সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জনাব জাকির হোসাইন, মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জনাব নোবেল চাকমা, পিপিএম এবং হবিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জনাব মোঃ শহিদুল হক মুন্সী।

এছাড়াও স্থানীয় কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কুলাউড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জনাব মোঃ আজমল হোসেন, সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জনাব আবুল খয়ের এবং শ্রীমঙ্গল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জনাব মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান রাজুসহ জেলা পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যবৃন্দ।

নিয়োগ কার্যক্রম পরিদর্শনকালে পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন বলেন, “সম্পূর্ণ মেধা, যোগ্যতা এবং স্বচ্ছতার ভিত্তিতে যোগ্য প্রার্থীদের নির্বাচিত করা হবে। কোনো প্রকার আর্থিক লেনদেন বা তদবিরের মাধ্যমে পুলিশে ভর্তির কোনো সুযোগ নেই।” তিনি প্রার্থীদের কোনো ধরনের প্রতারক বা দালাল চক্রের খপ্পরে না পড়ার জন্য বিশেষভাবে সতর্ক করেছেন।
আশা করা হচ্ছে, কয়েক ধাপের এই বাছাই প্রক্রিয়া শেষে মৌলভীবাজার জেলা থেকে একদল চৌকস ও দেশপ্রেমিক তরুণ পুলিশ বাহিনীতে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন।