মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় পারিবারিক বিরোধের জেরে এক ভয়াবহ ও নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার মুন্সীবাজার ইউনিয়নের রহিমপুর এলাকায় হেলিম মিয়া নামে এক ব্যক্তির ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার মা ও ভাবিসহ একই পরিবারের অন্তত পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজন নারী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন বলে প্রাথমিক সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার (২২ এপ্রিল) রহিমপুর এলাকায় হেলিম মিয়া আকস্মিক উত্তেজিত হয়ে তার পরিবারের সদস্যদের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে চড়াও হন। তার এলোপাথাড়ি কোপে পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠ মা এবং বড় ভাইয়ের স্ত্রীসহ পাঁচজন রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। আর্তচিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠায়।
আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আহত এক নারী শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বাকি চারজন বর্তমানে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।
নৃশংস এই হামলার পরপরই উত্তেজিত এলাকাবাসী অভিযুক্ত হেলিম মিয়াকে ধাওয়া করে আটক করতে সক্ষম হয়। এসময় উত্তেজিত জনতা তাকে গণধোলাই দিয়ে থানা পুলিশের হাতে সোপর্দ করে। খবর পেয়ে কমলগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অপরাধে ব্যবহৃত আলামত সংগ্রহ শুরু করে।
এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় পুরো রহিমপুর এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার আকস্মিকতায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। কেন বা কী কারণে আপন পরিবারের সদস্যদের ওপর এমন হিংস্র হামলা চালানো হলো, তা নিয়ে এলাকায় নানা গুঞ্জন চলছে।
পুলিশের বক্তব্য:
কমলগঞ্জ থানা পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশ কাজ করছে এবং এ বিষয়ে একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। অভিযুক্ত হেলিম মিয়া বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।