• শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:২৭ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
কমলগঞ্জে মুজাহিদ মঞ্জিল থেকে ৫ বিষধর কোবরার বাচ্চা উদ্ধার কমলগঞ্জে তরুণীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার, চিরকুট নিয়ে রহস্য হাটহাজারীতে ফায়ারিং অনুশীলনে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা: ২ সেনাসদস্য নিহত, সেনাকর্তাসহ আহত ২ শমশেরনগরে ভ্রাম্যমাণ আদালত: লাইসেন্সহীন রেস্টুরেন্ট ও আইসক্রিম ফ্যাক্টরিকে দেড় লাখ টাকা জরিমানা ​হামহাম ঝরনার সিতাপে অজ্ঞাত লাশ: নেপথ্যে পাহাড়ি ঢল নাকি অন্য কিছু? কমলগঞ্জে ইউপি সদস্যের ভাতা স্থগিত: চেয়ারম্যানকে হেয় করতে স্বামীর অপপ্রচারের অভিযোগ চা শ্রমিকনেত্রী গীতা কানু গ্রেপ্তার, বাগানে বাগানে থমথমে অবস্থা ​মৌলভীবাজারে যৌন হয়রানি থেকে বাঁচতে চলন্ত টমটম থেকে লাফ, কলেজছাত্রী আহত শমশেরনগরে গ্যাস সংকটে চালকদের চরম ভোগান্তি: সড়ক অবরোধের পর বিকেল ৫টায় সরবরাহ স্বাভাবিক ​স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি: আজই চূড়ান্ত ভোটার তালিকা

​দ্বিতীয় বিয়ে করতে অনুমতি লাগবে না স্ত্রীর: হাইকোর্টের চূড়ান্ত রায়

আহমেদ নাজিম / ৫৬৯ Time View
Update : রবিবার, ১১ জানুয়ারি, ২০২৬

770

দ্বিতীয় বিয়েতে স্ত্রীর অনুমতি বাধ্যতামূলক নয়: হাইকোর্টের যুগান্তকারী রায়

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা প্রকাশিত: ১১ জানুয়ারি, ২০২৬

​বাংলাদেশে বহুবিবাহের প্রচলিত আইনি ধারায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। মুসলিম পুরুষদের দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের ‘স্ত্রীর অনুমতি’ নেওয়ার রীতিকে আইনি বাধ্যবাধকতা নয় বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত স্পষ্ট করেছেন, দ্বিতীয় বিয়ের জন্য স্ত্রীর সরাসরি অনুমতির চেয়ে ‘আরবিট্রেশন কাউন্সিল’ বা সালিশি পরিষদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।

​আদালতের পর্যবেক্ষণ

​একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২৪ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়ে হাইকোর্ট উল্লেখ করেন, মুসলিম পারিবারিক আইনে দ্বিতীয় বিয়ের জন্য স্ত্রীর অনুমতি নেওয়ার সরাসরি কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা নেই। মূলত এই ক্ষমতা ন্যস্ত থাকে স্থানীয় আরবিট্রেশন কাউন্সিলের ওপর। কাউন্সিল যদি যৌক্তিক মনে করে অনুমতি প্রদান করে, তবে সেটিই আইনি ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।

​আদালত আরও জানান:

  • ​১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনে পুরুষের দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি মূলত আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতির ওপর নির্ভরশীল করা হয়েছে।
  • ​আইনত স্ত্রীর অনুমতি বাধ্যতামূলক না থাকলেও, কাউন্সিল গঠন ও সেখানে স্ত্রীর মতামত দেওয়ার সুযোগ থাকে।

​আইনের বিবর্তন ও বর্তমান চিত্র

​১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ৪৯৪ ধারা অনুযায়ী, স্বামী বা স্ত্রী একে অপরের অনুমতি ছাড়া পুনরায় বিয়ে করলে ৭ বছরের কারাদণ্ডের বিধান ছিল। তবে ১৯৬১ সালের অধ্যাদেশে পুরুষের ক্ষেত্রে এই নিয়ম কিছুটা শিথিল করে সালিশি পরিষদের আওতায় আনা হয়। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, অনুমতি ছাড়া বিয়ে করলে সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। হাইকোর্টের এই রায়ের ফলে এখন থেকে সালিশি পরিষদের অনুমতিই প্রধান বিবেচ্য বিষয় হয়ে দাঁড়াল।

​মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও আপিলের ঘোষণা

​এই রায়ের পর আইন অঙ্গন ও সচেতন মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। রিটকারী পক্ষ এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছে। তাদের দাবি:

  • অধিকারের সমতা: নারী-পুরুষের সমান অধিকার রক্ষায় এই আইনটি পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।
  • নীতিমালার শিথিলতা: এই রায়ের ফলে বহুবিবাহের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হতে পারে, যা নারীদের সুরক্ষা কমিয়ে দেবে।

​সমাজবিজ্ঞানীদের উদ্বেগ

​সমাজবিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এই রায়ের ফলে আর্থিক সক্ষমতা সম্পন্ন পুরুষদের মধ্যে একাধিক বিয়ের প্রবণতা বাড়তে পারে। এতে পারিবারিক কলহ, অস্থিরতা এবং সামাজিক অসাম্য বৃদ্ধির ঝুঁকি রয়েছে। মনস্তাত্ত্বিক প্রলোভন থেকে বহু পুরুষ এই সুযোগের অপব্যবহার করতে পারে বলেও তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

​আইনি ভবিষ্যৎ

​আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বিষয়টি এখন আপিল বিভাগে গেলে সেখানে বিস্তারিত শুনানি হবে। সর্বোচ্চ আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পরেই পরিষ্কার হবে বাংলাদেশে বহুবিবাহের আইনি কাঠামো ভবিষ্যতে কোন দিকে মোড় নেবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd