শহীদ শরীফ ওসমান হাদীর হত্যার বিচার দাবি, স্যাবোটাজের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান ডা. শফিকুর রহমানের
ডেস্ক রিপোর্ট
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান শহীদ শরীফ ওসমান হাদীর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে চলমান আন্দোলনকে কলুষিত করতে যেকোনো ধরনের স্যাবোটাজের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
নিজের ফেসবুক পেইজে ডা. শফিকুর রহমান জানান, ব্রিটিশ সরকারের আমন্ত্রণে বর্তমানে তিনি যুক্তরাজ্য সফরে থাকলেও তার মন পড়ে আছে প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশে। তিনি নিয়মিত দেশের সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর রাখছেন এবং বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখছেন বলে উল্লেখ করেন।
বিবৃতিতে শহীদ শরীফ ওসমান হাদীর শাহাদাতে গভীর শোক প্রকাশ করে তিনি বলেন, “তিনি একটি আধিপত্যমুক্ত, স্বাধীন ও ইনসাফপূর্ণ বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন। সহিংসতার পথ নয়, বরং যুক্তি ও আদর্শের মাধ্যমে ইনসাফের লড়াইয়ে বিশ্বাসী ছিলেন। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, তাঁর রক্ত কখনো বিফলে যাবে না।”
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, শহীদ হাদীর হত্যার বিচার আদায়ে ঐক্যবদ্ধভাবে ধৈর্য ও নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে। কোনো ষড়যন্ত্রকারী যেন এই আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
দেশের সাম্প্রতিক কয়েকটি দুঃখজনক ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, প্রথম আলো, ডেইলি স্টার এবং প্রবীণ সম্পাদক নুরুল কবিরের ওপর হামলা ও অপপ্রচারের ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। স্বাধীন গণমাধ্যম রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতার অন্যতম পূর্বশর্ত উল্লেখ করে তিনি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে গণমাধ্যমগুলোকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের অনুরোধ করেন।
এছাড়া হাইকমিশন কার্যালয়সহ কয়েকটি কালচারাল সেন্টারে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এসব কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
ময়মনসিংহে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে এক হিন্দু যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ধর্ম অবমাননা অবশ্যই অন্যায়, তবে তার বিচার আদালতের মাধ্যমেই হতে হবে। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া ইসলামের শিক্ষা নয়।
তিনি দাবি করেন, মূলধারার ইসলামপন্থী দল ও সংগঠনগুলো নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতিতে বিশ্বাসী এবং এ ধরনের সহিংসতায় জড়িত নয়। বরং পরিকল্পিতভাবে আন্দোলনকে স্যাবোটাজ করতেই এসব ঘটনা ঘটানো হতে পারে। প্রশাসনের ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা দোসরদের ভূমিকা তদন্তের দাবি জানান তিনি।
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে হবে এবং দ্রুত প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থাকে সক্রিয় ও জবাবদিহিমূলক করে একটি নিরাপদ বাংলাদেশ নিশ্চিত করার তাগিদ দেন তিনি।
বিবৃতির শেষাংশে তিনি বলেন, “দেশকে অস্থিতিশীল করার গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। বিভাজনের সুযোগ নিলে আধিপত্যবাদ মাথাচাড়া দেবে। শহীদ হাদীর স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে হলে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতেই হবে।”
তিনি জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়ে বলেন, শহীদ হাদীর রক্ত যেন দেশবাসীকে আরও ঐক্যবদ্ধ করে তোলে। মহান আল্লাহর কাছে দেশ ও জাতির নিরাপত্তা কামনা করেন তিনি।