মণিপুরী ললিতকলা একাডেমিতে অনিয়ম ও সরকারি বিধি লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী সরকারি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান মণিপুরী ললিতকলা একাডেমির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশের বিরুদ্ধে সরকারি বিধি লঙ্ঘন, দুর্নীতির তথ্য গোপন এবং প্রশাসনিক ভবনে অবৈধ আবাসনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এমনকি নারী নির্যাতন মামলায় চার বছরের সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত এক আসামী বছরের পর বছর বহাল তবিয়তে চাকুরি চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে।
সাজাপ্রাপ্ত আসামী চাকুরিতে বহাল
অনুসন্ধানে জানা যায়, একাডেমির বাদ্যযন্ত্র প্রশিক্ষক ধীরেন্দ্র কুমার সিংহ এক নারী নির্যাতন মামলায় চার বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা জরিমানাদণ্ড প্রাপ্ত আসামী। আদালতের স্পষ্ট দণ্ডাদেশ থাকা সত্ত্বেও তিনি কীভাবে সরকারি চাকুরিতে কর্মরত আছেন, তা নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহল ও সংস্কৃতিপ্রেমীদের মনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে সমাজে নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকা এবং আরও একাধিক মামলা বিচারাধীন থাকার তথ্য মিলেছে।
সাবেক উপ-পরিচালকের যোগসাজশ ও তথ্য গোপন
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৯ সালে একাডেমির তৎকালীন উপ-পরিচালক রামকান্ত সিংহ নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও অসদাচরণের দায়ে সরকারি চাকুরি থেকে বরখাস্ত হন। তার দায়িত্বপালনকালীন সময়েই প্রশিক্ষক ধীরেন্দ্র কুমার সিংহের সাজার রায় ঘোষিত হয়েছিল। অভিযোগ উঠেছে, বিপুল অর্থ লেনদেনের বিনিময়ে আদালতের রায়ের তথ্য গোপন রেখে ধীরেন্দ্র কুমারকে চাকুরিতে বহাল রাখেন বরখাস্তকৃত এই উপ-পরিচালক। পরবর্তীতে চাকুরিচ্যুত রামকান্ত সিংহ বিধিবহির্ভূতভাবে পুনরায় প্রতিষ্ঠানে ফেরার চেষ্টা করছেন এবং ধীরেন্দ্র কুমার সিংহকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে একাডেমির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার নানা অপকৌশল চালাচ্ছেন।
প্রশাসনিক ভবনে অবৈধ আবাসন ও নথিপত্র ফাঁসের অভিযোগ
অন্যদিকে, একাডেমির অফিস সহায়ক মোঃ গোলাম মোস্তফা এবং তার ভাই পাহারাদার মোঃ সাইফুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে একাডেমির প্রশাসনিক ভবনে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন। রাতের বেলা একাডেমি প্রাঙ্গণে তারা আড্ডার আসর বসান বলেও অভিযোগ রয়েছে। সাধারণ কর্মচারীরা এসব অনিয়মের প্রতিবাদ জানালে তাদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ সাজানো হচ্ছে। পাশাপাশি এই দুই কর্মচারীর বিরুদ্ধে অফিসের স্পর্শকাতর নথিপত্র ও গোপন তথ্য বাইরে পাচার করার গুরুতর সন্দেহ প্রকাশ করেছেন চাকুরিরত অন্যান্য কর্মচারীরা।
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি
ঐতিহ্যবাহী এই সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামীর উপস্থিতি, অবৈধ দখলদারিত্ব ও অব্যাহত অনিয়মে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সংস্কৃতিপ্রেমীরা। এসব অপকর্ম ও সরকারি বিধি লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকার সাধারণ জনগণ।