
দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে ওঠা আবাসিক মহিলা মাদ্রাসাগুলোর যৌক্তিকতা ও নিরাপত্তা নিয়ে বর্তমানে জনমনে তীব্র প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে এই প্রতিষ্ঠানগুলোর পর্দার আড়ালে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও নৈতিকতা নিয়ে বাড়ছে চরম উদ্বেগ। সচেতন মহল ও অভিভাবকদের একাংশ দাবি তুলেছেন, এসব প্রতিষ্ঠানে আবাসিক ব্যবস্থার কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই; বরং দিনের নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত পাঠদানই শিক্ষার্থীদের জন্য যথেষ্ট।
অনেক শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও অভিভাবকদের মতে, নারী শিক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের ২৪ ঘণ্টা একটি নির্দিষ্ট গণ্ডিতে আটকে রাখার কোনো শক্তিশালী যুক্তি নেই। তাদের দাবি, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত নিবিড় পাঠদানই সিলেবাস শেষ করার জন্য যথেষ্ট। আবাসিক ব্যবস্থার ফলে শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ সময় পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন থাকছে, যা তাদের স্বাভাবিক মানসিক বিকাশে স্থায়ী নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পরিবারহীন এই পরিবেশ শিশুদের সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ শেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করছে।
সম্প্রতি বিভিন্ন মহলে অভিযোগ উঠেছে যে, কঠোর গোপনীয়তা ও পর্যাপ্ত তদারকির অভাবে কিছু আবাসিক মহিলা মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীরা যৌন লালসা ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম বাইরে থেকে পর্যবেক্ষণ করা অত্যন্ত কঠিন হওয়ায় অপরাধীরা সহজেই পার পেয়ে যাচ্ছে। ভুক্তভোগীদের বরাত দিয়ে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘নিরাপদ আশ্রয়’ মনে করে অভিভাবকরা সন্তানদের মাদ্রাসায় দিলেও সেখানে তারা বহুমুখী শারীরিক ও মানসিক ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
”সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ক্লাস করলে যেখানে শিক্ষা অর্জন সম্ভব, সেখানে আবাসিক ব্যবস্থার মাধ্যমে খরচ বৃদ্ধি ও ঝুঁকি বাড়ানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।” — অভিভাবক প্রতিনিধি
আবাসিক মাদ্রাসাগুলোতে যথাযথ প্রশাসনিক নজরদারি না থাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিস্তার ঘটছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মৌলভীবাজারসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, আবাসিক ব্যবস্থার পরিবর্তে অনাবাসিক বা ডে-শিফট ব্যবস্থা চালু করলে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা কয়েক গুণ বেড়ে যাবে। এতে শিক্ষার্থীরা দিনের বেলা পড়াশোনা শেষ করে বিকেলে পরিবারের কাছে ফিরে যেতে পারবে, যা তাদের সর্বোচ্চ সুরক্ষা নিশ্চিত করবে।
শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত জ্ঞান অর্জন ও নৈতিক চরিত্রের গঠন। কিন্তু যদি সেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশই অনিরাপদ হয়ে ওঠে, তবে তা সমাজের জন্য এক অশনিসংকেত। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন:
নিরাপদ শৈশব এবং সুস্থ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে পর্দার আড়ালের এই অন্ধকার দূর করা না গেলে নারী শিক্ষার মূল লক্ষ্যই ব্যাহত হবে বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদগণ।