• মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০০ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
কমলগঞ্জে মুজাহিদ মঞ্জিল থেকে ৫ বিষধর কোবরার বাচ্চা উদ্ধার কমলগঞ্জে তরুণীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার, চিরকুট নিয়ে রহস্য হাটহাজারীতে ফায়ারিং অনুশীলনে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা: ২ সেনাসদস্য নিহত, সেনাকর্তাসহ আহত ২ শমশেরনগরে ভ্রাম্যমাণ আদালত: লাইসেন্সহীন রেস্টুরেন্ট ও আইসক্রিম ফ্যাক্টরিকে দেড় লাখ টাকা জরিমানা ​হামহাম ঝরনার সিতাপে অজ্ঞাত লাশ: নেপথ্যে পাহাড়ি ঢল নাকি অন্য কিছু? কমলগঞ্জে ইউপি সদস্যের ভাতা স্থগিত: চেয়ারম্যানকে হেয় করতে স্বামীর অপপ্রচারের অভিযোগ চা শ্রমিকনেত্রী গীতা কানু গ্রেপ্তার, বাগানে বাগানে থমথমে অবস্থা ​মৌলভীবাজারে যৌন হয়রানি থেকে বাঁচতে চলন্ত টমটম থেকে লাফ, কলেজছাত্রী আহত শমশেরনগরে গ্যাস সংকটে চালকদের চরম ভোগান্তি: সড়ক অবরোধের পর বিকেল ৫টায় সরবরাহ স্বাভাবিক ​স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি: আজই চূড়ান্ত ভোটার তালিকা

৫ দিন বিদ্যুৎহীন মৌলভীবাজার: চা উৎপাদন বন্ধ, দেড় কোটি টাকা ক্ষতির মুখে বাগানগুলো

আহমেদ নাজিম / ৬৫ Time View
Update : শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬

119

বিদ্যুৎ বিভ্রাটে থমকে গেছে ‘চায়ের রাজধানী’, ৫ দিনে দেড় কোটি টাকার ক্ষতির শঙ্কা

​দেশের ‘চায়ের রাজধানী’ হিসেবে খ্যাত মৌলভীবাজারের চা-শিল্প এখন চরম সংকটের মুখে। টানা পাঁচ দিন ধরে চলমান ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে স্থবির হয়ে পড়েছে জেলার চা উৎপাদন ব্যবস্থা। বিশেষ করে সরকারি পাঁচটিসহ বিভিন্ন চা-বাগানের কারখানাগুলোতে উৎপাদন কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে আছে। এতে কারখানায় রাখা বিপুল পরিমাণ কাঁচা চা-পাতা পচে নষ্ট হওয়ায় প্রায় দেড় কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

​কারখানায় পচছে পাতা, স্থবির উৎপাদন

​সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যুৎ না থাকায় গত পাঁচ দিন ধরে কারখানাগুলোর যন্ত্রাংশ ঘোরেনি। বাগানগুলোতে বর্তমানে প্রায় আড়াই লাখ কেজি কাঁচা চা-পাতা মজুদ রয়েছে, যা থেকে অন্তত ৬০ হাজার কেজি তৈরি চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। প্রক্রিয়াজাতকরণের নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে যাওয়ায় এই বিপুল পরিমাণ পাতা মাচাতেই পচে নষ্ট হতে শুরু করেছে। এতে যেমন চা-শিল্প বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে, তেমনি সরকারের রাজস্ব আয়ের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

​বাগান ব্যবস্থাপকদের উদ্বেগ

​ন্যাশনাল টি কোম্পানির মাধবপুর চা-বাগানের ব্যবস্থাপক দিপন কুমার সিংহ জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় সরকারি বাগানগুলোর পাশাপাশি ব্যক্তিমালিকানাধীন বাগানগুলোর অবস্থাও করুণ। উৎপাদন বন্ধ থাকায় হাজার হাজার চা-শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।

​পাত্রখলা চা-বাগানের ব্যবস্থাপক মো. ইউসুফ খাঁন বলেন:

​”এপ্রিলের শুরু থেকেই লোডশেডিং ছিল, তবে ২৬ এপ্রিল থেকে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এখন দিনে মাত্র ১-২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। আমার বাগানেই প্রায় ১ লাখ ৮ হাজার কেজি কাঁচা পাতা পচে নষ্ট হওয়ার পথে।”

 

​সংকটে চা-শ্রমিকরা

​দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকায় চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন চা-শ্রমিকরা। দিনমজুরির ওপর নির্ভরশীল এই শ্রমিকদের অনেকের ঘরেই এখন খাবার জোগানো কঠিন হয়ে পড়েছে। দ্রুত কাজ শুরু না হলে তাঁদের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

​কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

​বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণ হিসেবে কমলগঞ্জ পল্লী বিদ্যুতের মাধবপুর ইউনিটের ইনচার্জ মো. রহমতউল্লা জানান, সাম্প্রতিক ঘূর্ণিঝড় ও ঝড়ে বিদ্যুৎ লাইনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। লাইন মেরামত করে দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করতে কর্মীরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছেন।

​কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “পুরো উপজেলাতেই বিদ্যুৎ সমস্যা দেখা দিয়েছে। ঝড়ে গাছপালা পড়ে লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। তবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।”

​চায়ের উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে এবং শ্রমিকদের দুর্ভোগ কমাতে দ্রুত বিদ্যুৎ সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন বাগান মালিক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd