মৌলভীবাজারের রাজনগরে ডাকাত সন্দেহে এক প্রাইভেটকার চালককে বেধড়ক মারধর ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। তবে যাচাই-বাছাই শেষে জানা গেছে, আক্রান্ত ওই ব্যক্তি কোনো অপরাধী নন; বরং একজন প্রবাসী যাত্রীকে পৌঁছে দিয়ে ফেরার পথে তিনি চরম ভুল বোঝাবুঝি ও সহিংসতার শিকার হন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতরাতে জনৈক এক প্রবাসীকে বিমানবন্দর থেকে নিয়ে রাজনগরের ফতেপুর ইউনিয়নের মোকামবাজার এলাকায় পৌঁছে দেন ওই চালক। ফেরার পথে রাত গভীর হয়ে গেলে পাঁচগাঁও এলাকায় একদল লোক দেশীয় অস্ত্রসহ তার গাড়ির গতিরোধ করে পরিচয় জানতে চায়। নির্জন রাস্তায় অস্ত্রধারী একদল মানুষকে দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন চালক। নিজের জীবন বাঁচাতে তিনি দ্রুত গাড়ি চালিয়ে রাজনগর বাজারের দিকে চলে আসেন।
চালকের দ্রুত পলায়নকে সন্দেহজনক মনে করে পাঁচগাঁও এলাকা থেকে ২০-২৫ জন লোক মোটরসাইকেল ও একটি গাড়ি নিয়ে তাকে ধাওয়া করে। রাজনগর বাজারে এসে তারা গাড়িটি আটকাতে সক্ষম হয়। সেখানে উপস্থিত পাহারাদাররা উত্তেজিত জনতাকে থামানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। উন্মত্ত জনতা চালককে গাড়ি থেকে নামিয়ে বেধড়ক পিটুনি দেয় এবং তার ব্যক্তিগত গাড়িটি ব্যাপকভাবে ভাঙচুর করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মারধরের শিকার চালক বারবার নিজের পরিচয় দিলেও উত্তেজিত জনতা তা আমলে নেয়নি। পরবর্তীতে তাকে বেঁধে মোকামবাজারের সেই প্রবাসীর বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রবাসীর স্বজনরা তাকে শনাক্ত করলে বিষয়টি পরিষ্কার হয় যে তিনি কোনো ডাকাত নন।
নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হলেও চালক শারীরিকভাবে আহত হয়েছেন এবং তার গাড়িটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। আজ স্থানীয়ভাবে হামলাকারীদের নিয়ে একটি সালিশি বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সুরাহা হয়নি। ঘটনার সুষ্ঠু মীমাংসার লক্ষ্যে রাজনগর ইউপি চেয়ারম্যান জোবায়ের চৌধুরীর উপস্থিতিতে আগামী বৃহস্পতিবার পুনরায় বৈঠকের দিন ধার্য করা হয়েছে।
সচেতন মহলের উদ্বেগ: > স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, যাচাই-বাছাই ছাড়াই এভাবে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া এবং গণপিটুনির ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য এক বড় হুমকি। এ ধরনের অমানবিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন তারা।