সম্প্রতি চিকিৎসা বিজ্ঞানে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামি মিলার স্কুল অব মেডিসিন-এর একটি গবেষণা। প্রায় ৪০ লাখ ক্যানসার রোগীর তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকরা জানিয়েছেন, বিবাহিত ব্যক্তিদের তুলনায় অবিবাহিতদের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি আশঙ্কাজনকভাবে বেশি। ‘ক্যানসার রিসার্চ কমিউনিকেশনস’ জার্নালে এই গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় সব ধরনের ক্যানসারের ক্ষেত্রেই অবিবাহিতরা বেশি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী:
বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট করেছেন যে, বিয়ে সরাসরি ক্যানসারের বিরুদ্ধে কোনো ঢাল হিসেবে কাজ করে না। বরং এর পেছনে লুকিয়ে আছে গভীর সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক সমীকরণ। গবেষকদের মতে, এটি শরীরের অভ্যন্তরীণ কোনো বিষয়ের চেয়ে জীবনযাত্রার ধরনের ওপর বেশি নির্ভরশীল।
গবেষণায় বিবাহিত ব্যক্তিদের সুস্থ থাকার পেছনে তিনটি প্রধান কারণ উঠে এসেছে:
১. দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ: বিবাহিতরা সাধারণত পরিবারের চাপে বা অনুপ্রেরণায় সামান্য অসুস্থতাতেই চিকিৎসকের কাছে যান। ফলে ক্যানসারের মতো মরণব্যাধি প্রাথমিক পর্যায়েই ধরা পড়ে।
২. চিকিৎসায় ধারাবাহিকতা: পারিবারিক সমর্থনের কারণে বিবাহিত রোগীরা নিয়মিত ওষুধ সেবন এবং ফলোআপ চেকআপের বিষয়ে বেশি সচেতন থাকেন।
৩. সুশৃঙ্খল জীবনযাপন: অবিবাহিতদের তুলনায় বিবাহিতদের মধ্যে অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, ধূমপান এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের প্রবণতা কম দেখা যায়।
গবেষকরা বলছেন, সামাজিক একাকিত্ব এবং জীবনযাত্রার অনিয়ম সরাসরি স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি এবং একঘেয়েমি অনেক সময় শরীরে রোগের বাসা বাঁধতে সাহায্য করে। তবে সামাজিক অবস্থান কীভাবে সরাসরি শরীরের কোষের ওপর প্রভাব ফেলে, তা নিয়ে আরও বিস্তারিত গবেষণার অবকাশ রয়েছে বলে জানিয়েছেন গবেষক দল।
”সামাজিক একাকিত্ব কেবল মানসিক নয়, শারীরিক বিপর্যয়েরও কারণ হতে পারে। তাই অবিবাহিত ব্যক্তিদের উচিত জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার বিষয়ে আরও সচেতন হওয়া।” — গবেষক দল, ক্যানসার রিসার্চ কমিউনিকেশনস