• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১৮ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
চেকপোস্ট ও টহল ফাঁকি দিয়ে রাতে সাবাড় ১৪ গাছ, নেপথ্যে কারা? ​জুয়েল আহমদ জুলি ছাত্রলীগের কর্মী নন, ছাত্রদলের স্বপদেই বহাল: মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রদল স্মার্টফোন আসক্তি দূর করে ক্রীড়ামুখী প্রজন্ম গড়ার প্রত্যয়ে আসছে ‘কমলগঞ্জ ইনডোর স্টেডিয়াম ​আলীনগর ১নং ওয়ার্ডে মেম্বার পদপ্রার্থী আবুল হোসেনের প্রশংসনীয় উদ্যোগ, নিজস্ব তহবিলে সড়ক মেরামত মৌলভীবাজারে কালের কণ্ঠের সাংবাদিক সালাউদ্দিন শুভর চরিত্রহননে এআই-এর অপব্যবহার, তীব্র প্রতিবাদ ​ক্লাসে শিক্ষিকার ঘুম, কমলগঞ্জে বিদ্যালয়জুড়ে অনিয়মের অভিযোগ কমলগঞ্জে মুজাহিদ মঞ্জিল থেকে ৫ বিষধর কোবরার বাচ্চা উদ্ধার কমলগঞ্জে তরুণীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার, চিরকুট নিয়ে রহস্য হাটহাজারীতে ফায়ারিং অনুশীলনে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা: ২ সেনাসদস্য নিহত, সেনাকর্তাসহ আহত ২ শমশেরনগরে ভ্রাম্যমাণ আদালত: লাইসেন্সহীন রেস্টুরেন্ট ও আইসক্রিম ফ্যাক্টরিকে দেড় লাখ টাকা জরিমানা

সফাত আলী মাদ্রাসার কবরস্থানে অমানবিক প্রকল্প মাত্র ১ হাত দূরে সেপটিক ট্যাংক! কমলগঞ্জ ইউএনওর হস্তক্ষেপ চায় এলাকাবাসী

আহমেদ নাজিম / ১৭৩ Time View
Update : মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৬

364

কবরের কোলঘেঁষে সেপটিক ট্যাংক: কমলগঞ্জে মৃতদের সম্মানে চরম আঘাত, ফুঁসছে এলাকাবাসী

​

​মৃত মানুষটির শেষ আশ্রয়স্থল হিসেবে যে এক টুকরো মাটির পবিত্রতা আমরা আমৃত্যু আগলে রাখি, সেই পবিত্র ঠিকানায় হানা দিয়েছে এক অমানবিক সিদ্ধান্ত। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার সফাত আলী সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার কবরস্থানের মাত্র ১/২ মিটার দূরত্বে নির্মিত হচ্ছে একটি শৌচাগারের সেপটিক ট্যাংক। এই ঘটনায় স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর প্রশ্ন— “উন্নয়ন কি তবে মৃতদের শেষ সম্মানটুকু কেড়ে নেওয়ার নাম?”

​পবিত্রতা বনাম অপবিত্রতার লড়াই

​কবরস্থান কোনো সাধারণ ভূখণ্ড নয়; এটি আমাদের পূর্বপুরুষদের চিরনিদ্রার পবিত্র ভূমি। সেখানে বর্জ্যবাহী একটি ট্যাংক নির্মাণের সিদ্ধান্ত শুধু ভুল নয়, বরং এটি ধর্মীয় অনুভূতি ও মানবিকতার মূলে কুঠারাঘাত। সরেজমিনে দেখা গেছে, যে স্থানে সেপটিক ট্যাংকটি নির্মাণ করা হচ্ছে, তা কবরের এতোটাই কাছে যে, ভবিষ্যতে এই বর্জ্য চুয়ে মাটির নিচ দিয়ে কবরের ভেতরে প্রবেশ করার আশঙ্কা শতভাগ।

​বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী জানাচ্ছেন, অদূর ভবিষ্যতে যখন নতুন কবর খনন করা হবে, তখন যদি ময়লা পানি বা দুর্গন্ধ বের হয়, সেই লজ্জাজনক পরিস্থিতির দায়ভার কে নেবে? এটি কি মৃতদের প্রতি চরম অবমাননা নয়?

​নেপথ্যে বিতর্কিত সিদ্ধান্ত?

​অভিযোগ উঠেছে, মাদ্রাসার সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ গোলাম মোস্তফার সময়কালে এই প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছিল। সচেতন মহলে এখন একটাই প্রশ্ন— তখন কি মানবিকতা বিসর্জন দেওয়া হয়েছিল? স্থানীয় মানুষের তীব্র আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এমন একটি সংবেদনশীল স্থানে সেপটিক ট্যাংকের নকশা চূড়ান্ত করা হলো? কার ইশারায় পবিত্র গোরস্থানকে কলুষিত করার এই নীল নকশা বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে?

​বিবেকের কাছে প্রশ্ন: আজ চুপ থাকলে কাল দায় কার?

​প্রতিবাদের ভাষায় স্থানীয়রা বলছেন, “আমরা উন্নয়নের বিরোধী নই, কিন্তু উন্নয়নের নামে অপবিত্রতা মেনে নেওয়া যায় না। আজ যদি আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের কবরের মর্যাদা রক্ষা করতে না পারি, তবে আগামী প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না।”

​প্রশাসনের প্রতি জোরালো দাবি

​এই অমানবিক পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে এলাকাবাসী কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি:

  • ​তৎক্ষণাৎ নির্মাণ কাজ বন্ধ করে সরেজমিনে তদন্ত করা হোক।
  • ​মৃতদের সম্মানের কথা বিবেচনায় নিয়ে সেপটিক ট্যাংকটি কবরস্থান থেকে নিরাপদ দূরত্বে স্থানান্তর করা হোক।
  • ​এমন হঠকারী সিদ্ধান্তের নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা হোক।

​এটি কেবল একটি অবকাঠামোগত সমস্যা নয়; এটি আমাদের আদর্শ, সম্মান এবং ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষার সংগ্রাম। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া না হলে এই প্রতিবাদ আরও কঠোর রূপ নিতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্থানীয়রা।

​“যে মাটি আমাদের পরম মমতায় আগলে রাখবে, সেখানে বর্জ্যের ভাগাড় হতে দেব না।” — এলাকাবাসীর শপথ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd