• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১৯ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
চেকপোস্ট ও টহল ফাঁকি দিয়ে রাতে সাবাড় ১৪ গাছ, নেপথ্যে কারা? ​জুয়েল আহমদ জুলি ছাত্রলীগের কর্মী নন, ছাত্রদলের স্বপদেই বহাল: মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রদল স্মার্টফোন আসক্তি দূর করে ক্রীড়ামুখী প্রজন্ম গড়ার প্রত্যয়ে আসছে ‘কমলগঞ্জ ইনডোর স্টেডিয়াম ​আলীনগর ১নং ওয়ার্ডে মেম্বার পদপ্রার্থী আবুল হোসেনের প্রশংসনীয় উদ্যোগ, নিজস্ব তহবিলে সড়ক মেরামত মৌলভীবাজারে কালের কণ্ঠের সাংবাদিক সালাউদ্দিন শুভর চরিত্রহননে এআই-এর অপব্যবহার, তীব্র প্রতিবাদ ​ক্লাসে শিক্ষিকার ঘুম, কমলগঞ্জে বিদ্যালয়জুড়ে অনিয়মের অভিযোগ কমলগঞ্জে মুজাহিদ মঞ্জিল থেকে ৫ বিষধর কোবরার বাচ্চা উদ্ধার কমলগঞ্জে তরুণীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার, চিরকুট নিয়ে রহস্য হাটহাজারীতে ফায়ারিং অনুশীলনে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা: ২ সেনাসদস্য নিহত, সেনাকর্তাসহ আহত ২ শমশেরনগরে ভ্রাম্যমাণ আদালত: লাইসেন্সহীন রেস্টুরেন্ট ও আইসক্রিম ফ্যাক্টরিকে দেড় লাখ টাকা জরিমানা

কমলগঞ্জে কবরস্থানের পাশে সেপটিক ট্যাংক নির্মাণে ক্ষোভ: প্রশাসনের হস্তক্ষেপে কাজ বন্ধ

আহমেদ নাজিম / ৯২ Time View
Update : বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬

175

ট্যাংক নির্মাণে ক্ষোভ: প্রশাসনের হস্তক্ষেপে কাজ বন্ধ

​

​মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার সফাত আলী সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার কবরস্থানের ঠিক গা ঘেঁষে ওয়াশরুমের সেপটিক ট্যাংক নির্মাণকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা ও জনরোষ সৃষ্টি হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপে নির্মাণকাজ বন্ধ করে ট্যাংকটি অন্যত্র স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

​ঘটনার সূত্রপাত ও স্থানীয়দের প্রতিবাদ

​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাদ্রাসার কবরস্থানের মাত্র আধা মিটার (প্রায় দেড় ফুট) দূরত্বে একটি ওয়াশরুমের সেপটিক ট্যাংক নির্মাণের কাজ শুরু করে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। এলাকাবাসী এই সিদ্ধান্তকে ধর্মীয় মূল্যবোধের অবমাননা এবং অমানবিক বলে আখ্যা দেন।

​“কবরস্থান কোনো সাধারণ জায়গা নয়; এটি মৃতদের চিরনিদ্রার পবিত্র ঠিকানা। এমন স্থানের পাশে বর্জ্য নির্গমনকারী ট্যাংক নির্মাণ করা মানে কবরের পবিত্রতা নষ্ট করা। আমরা কোনোভাবেই এটা মেনে নিতে পারি না।” — বিক্ষুব্ধ এক স্থানীয় বাসিন্দা

পূর্ববর্তী কর্তৃপক্ষের ভূমিকা

​জানা গেছে, মাদ্রাসার সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ গোলাম মোস্তফার কার্যকালেই এই প্রকল্পটির টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছিল। এলাকাবাসীর অভিযোগ, কাজ শুরুর সময় তারা মৌখিকভাবে আপত্তি জানালেও কর্তৃপক্ষ তা আমলে নেয়নি। বরং একপ্রকার গায়ের জোরেই কবরস্থানের পবিত্রতা ক্ষুণ্ণ করে এই স্থাপনা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

​প্রশাসনের ত্বরিত হস্তক্ষেপ

​পরিস্থিতি বেগতিক দেখে এবং জনরোষের মুখে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বিষয়টি গুরুত্বের সাথে আমলে নেন। তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করে তাৎক্ষণিকভাবে সেপটিক ট্যাংকের নির্মাণকাজ বন্ধ করার নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে কবরস্থান থেকে নিরাপদ দূরত্বে ট্যাংকটি সরিয়ে নেওয়ার কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন।

সন্তোষ প্রকাশ ও কৃতজ্ঞতা

​প্রশাসনের এই দ্রুত পদক্ষেপে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। এলাকাবাসী তাদের দাবি আদায়ে সহযোগিতা করার জন্য বিশেষ করে কমলগঞ্জ প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। সংবাদকর্মীরা বিষয়টি সাহসিকতার সাথে জনসমক্ষে তুলে ধরায় জনমত গঠন সহজ হয়েছে বলে তারা মনে করেন।

​সচেতন মহলের অভিমত

​উপজেলার সচেতন মহলের মতে, যেকোনো উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট এলাকার ধর্মীয় সংবেদনশীলতা, সামাজিক মূল্যবোধ এবং পরিবেশগত প্রভাব বিবেচনা করা অত্যন্ত জরুরি। নিয়ম না মেনে বা মানুষের আবেগ উপেক্ষা করে কাজ করলে সরকারের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা যেমন প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তেমনি সামাজিক অস্থিরতাও তৈরি হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd