কমলগঞ্জে বখাটের ব্ল্যাকমেইলে স্কুলছাত্রীর আত্মহনন, এলাকায় তীব্র ক্ষোভ
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় বখাটের দীর্ঘদিনের হুমকি, মানসিক নির্যাতন ও ব্ল্যাকমেইলের শিকার হয়ে মীম আক্তার (১৫) নামের এক স্কুলছাত্রী বিষপানে আত্মহত্যা করেছে। এক সপ্তাহ মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে গত শুক্রবার (২২ মে) রাত ১১টার দিকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত মীম আক্তার উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের মাধবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী এবং কাটাবিল গ্রামের মনির মিয়ার মেয়ে।
এই নির্মম ঘটনার পর থেকে স্থানীয় এলাকাবাসী ও সহপাঠীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত যুবক পলাতক রয়েছে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের কাটাবিল গ্রামের আব্দুর রহমান পচনের ছেলে সানোয়ার মিয়া দীর্ঘদিন ধরে মীমকে স্কুলে যাতায়াতের পথে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। বিভিন্ন সময় অশ্লীল ইঙ্গিত, কটূক্তি ও আপত্তিকর আচরণের মাধ্যমে তাকে চরম মানসিক চাপে রাখত সে। শুধু তাই নয়, আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে আপত্তিকর ছবি তৈরি এবং তা সামাজিকভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে মীমকে নিয়মিত ব্ল্যাকমেইল ও হুমকি দেওয়া হতো।
নিহতের স্বজনরা অভিযোগ করেন, সানোয়ারের পরিবারকে একাধিকবার বিষয়টি জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি। উল্টো তারা হুমকি-ধমকি দেয়। একপর্যায়ে মীমকে জোরপূর্বক বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট ও পার্কে নিয়ে গিয়ে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে নতুন করে ব্ল্যাকমেইল শুরু করে ওই বখাটে। এই চরম মানসিক নির্যাতন ও সামাজিক অপমানের গ্লানি সহ্য করতে না পেরে গত সপ্তাহে নিজ বাড়িতে বিষপান করে মীম। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে প্রথমে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার রাতে তার মৃত্যু ঘটে।
নিহত স্কুলছাত্রীর চাচা ও মামলার বাদী মো. আরিফ মিয়া বলেন, ‘সানোয়ারের পরিবারকে বারবার জানিয়েও আমরা বিচার পাইনি। উল্টো তারা ভয়ভীতি দেখিয়েছে। মৃত্যুর আগে মীম নিজে সানোয়ারের ব্ল্যাকমেইল ও আত্মহত্যার প্ররোচনার কথা বলে গেছে। আমরা এই অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত সানোয়ার মিয়ার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। তবে তার বড় ভাই আনোয়ার হোসেন দাবি করেন, ‘আমরা এই বিষয়ে কিছুই জানি না। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মেয়ের পরিবার আমার ভাইয়ের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।’
এ বিষয়ে কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আউয়াল জানান, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। মূল অভিযুক্তসহ জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’