• বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ১১:১৯ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
গকুলনগরে মেম্বার পদপ্রার্থী পুতুল মিয়ার উদ্যোগে বেহাল রাস্তা ও কালভার্ট সংস্কার কাজ চলমান বিশ্বকাপের আগে গর্জে উঠল স্কালোনির দল, আইসল্যান্ডকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা বেওয়ারিশ’ বলেই কি শেষ যাত্রা ময়লার গাড়িতে? মৌলভীবাজারে এক নির্মম বাস্তবতার গল্প সরকারি বরাদ্দের অপেক্ষা না করে নিজ অর্থায়নে রাস্তা সংস্কার করলেন মেম্বার পদপ্রার্থী পুতুল মিয়া কমলগঞ্জে নিরাপদ পণ্য ও প্রবাসীদের আস্থার ঠিকানা হয়ে উঠছে হালাল ডেইলি শপ ​কমলগঞ্জে নবাগত ওসির সাথে ‘নিসচা’ উপজেলা শাখার সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় ​শ্রীমঙ্গলে বসতঘরে চুরি: নগদ টাকা ও সরঞ্জামসহ গ্রেপ্তার ৫ কমলগঞ্জে ছাত্রশিবিরের জ্যৈষ্ঠ মাসিক ফলচক্র ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা সম্পন্ন কমলগঞ্জে পূর্ব শত্রুতার জেরে দফায় দফায় নৃশংস হামলা: প্রথমে দোকানে ও পরে হাসপাতালের ভেতরে ঢুকে দুই ভাইকে কোপানোর অভিযোগ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছে ধাক্কা: কমলগঞ্জে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থীর অকাল মৃত্যু

সাজানো মামলা ও শারীরিক নির্যাতনের প্রতিবাদে মৌলভীবাজারে সংবাদকর্মী জয়নাল আবেদীনের সংবাদ সম্মেলন

আহমেদ নাজিম / ১৫৭ Time View
Update : শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬

184

শ্রীমঙ্গলে দুই চেক মামলায় সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবিতে সাংবাদিক জয়নাল আবেদীনের সংবাদ সম্মেলন

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে নিজের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত দুটি চেক সংক্রান্ত মামলার বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্থানীয় সংবাদকর্মী ও মানবাধিকারকর্মী মোঃ জয়নাল আবেদীন বাদশা।
​আজ শনিবার (২৩ মে ২০২৬) বিকাল ৪ টায় মৌলভীবাজারের স্থানীয় ‘মামার বাড়ি রেস্টুরেন্টে’ এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে মৌলভীবাজার অনলাইন প্রেসক্লাব ও মৌলভীবাজার জেলা প্রেস ক্লাবসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি, স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী এবং মানবাধিকারকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
​সামাজিক সালিশ ও চেকের সূত্রপাত
​সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মোঃ জয়নাল আবেদীন বাদশা জানান, তিনি দীর্ঘ প্রায় ৭ বছর ধরে স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা, মানবাধিকার ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে মাঠপর্যায়ে সংবাদকর্মী হিসেবে কাজ করে আসছেন। তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত দুটি চেক মামলার প্রকৃত ঘটনা, সংশ্লিষ্ট তথ্য এবং ঘটনার ধারাবাহিকতা জনসাধারণের সামনে তুলে ধরতেই তিনি এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন।
​লিখিত বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের মার্চ মাসে তার নিজ গ্রামের বাসিন্দা মোঃ মাসুক মিয়া অভিযোগ তোলেন যে, ভারতীয় চিনি ব্যবসার কথা বলে জয়নাল আবেদীন কথিত মাহবুব মুর্শেদ নামের এক ব্যক্তির ডাচ্-বাংলা ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং হিসাবের মাধ্যমে অর্থ গ্রহণ করেছেন। পরবর্তীতে এই বিষয়টি নিয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলা পরিষদে একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
​জয়নাল আবেদীন দাবি করেন:
​”সালিশ বৈঠকের এক পর্যায়ে এক প্রকার জোরপূর্বক আমার কাছ থেকে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের দুটি স্বাক্ষরকৃত চেক রেখে দেওয়া হয় এবং একটি লিখিত চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। পরবর্তীতে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ওই চেকের ওপর ভিত্তি করে আমার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়।”
​ব্যাংকের প্রতিবেদন ও আদালতের রায়
​আদালত সূত্রে জানা যায়, ওই চেকের ভিত্তিতে জয়নাল আবেদীনের বিরুদ্ধে জিআর ২৫৫/২০২৪ (দায়রা নং-৫৮১/২০২৪) এবং জিআর ২৫৬/২০২৪ (দায়রা নং-৫৮২/২০২৪) মামলা দায়ের করা হয়।
​সংবাদ সম্মেলনে সংবাদকর্মী জয়নাল বলেন, মামলা চলাকালে আদালতের নির্দেশে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবের তথ্য যাচাই করা হলে একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে। ডাচ্-বাংলা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আদালতে লিখিতভাবে জানায় যে, মামলায় উল্লিখিত ব্যাংক হিসাব নম্বরটির কোনো অস্তিত্বই তাদের শ্রীমঙ্গল শাখায় নেই।
​তিনি আরও জানান, গত ৯ মার্চ ২০২৬ তারিখে এই মামলাদ্বয়ের রায় ঘোষণা করেন আদালত। রায়ে একটি মামলায় তাকে ১ মাসের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড এবং অপর মামলায় ১ বছরের কারাদণ্ড ও ১৮ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়। রায়ের পর থেকেই ন্যায়বিচারের আশায় বর্তমানে বিষয়টি উচ্চ আদালতে আপিল প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
​kidnapping ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ
​সংবাদ সম্মেলনে জয়নাল আবেদীন বাদশা তার ওপর ঘটে যাওয়া এক ভয়াবহ নির্যাতনের বিবরণ দেন। তিনি অভিযোগ করেন, মামলার আপিল পরিচালনার জন্য অর্থ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে গত ৩০ এপ্রিল তিনি শ্রীমঙ্গলে যাচ্ছিলেন। পথে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে জোরপূর্বক আটক করে শহরের হবিগঞ্জ রোডস্থ একটি গ্যারেজে নিয়ে যায়। সেখানে তার ওপর ব্যাপক শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় এবং তার মোবাইল ফোন ও সঙ্গে থাকা নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে এই নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
​এছাড়া তার স্ত্রীর অভিযোগের বরাত দিয়ে তিনি জানান, তাকে আটকে রেখে শারীরিকভাবে হেনস্তা করার পাশাপাশি তার স্ত্রীর ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে দুটি মোবাইল ফোন, নগদ ২৫ হাজার টাকা এবং প্রায় দুই ভরি ব্যবহৃত স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং বিষয়টি বর্তমানে পুলিশ তদন্ত করছে।
​ন্যায়বিচারের আশায় উচ্চ আদালত
​সংবাদ সম্মেলনের শেষভাগে জয়নাল আবেদীন বাদশা দেশের বিচারব্যবস্থার প্রতি সম্মান জানিয়ে বলেন,
​“আমি বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা ও আদালতের প্রতি পূর্ণ আস্থা ও শ্রদ্ধা রাখি। আমার বিশ্বাস, উচ্চ আদালতে মামলার নথিপত্র ও সংশ্লিষ্ট তথ্য-প্রমাণ যথাযথভাবে যাচাই করা হলে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে এবং আমি নির্দোষ প্রমাণিত হব।”
​তিনি তার বিরুদ্ধে আনীত আর্থিক অভিযোগসমূহের নিরপেক্ষ তদন্ত, সঠিক ব্যাংক তথ্য যাচাই এবং তার ও তার পরিবারের ওপর হামলার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে মামলার সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, ব্যাংক প্রতিবেদন ও অন্যান্য প্রমাণাদি উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে প্রদর্শন করা হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd