• বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ১১:১৯ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
গকুলনগরে মেম্বার পদপ্রার্থী পুতুল মিয়ার উদ্যোগে বেহাল রাস্তা ও কালভার্ট সংস্কার কাজ চলমান বিশ্বকাপের আগে গর্জে উঠল স্কালোনির দল, আইসল্যান্ডকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা বেওয়ারিশ’ বলেই কি শেষ যাত্রা ময়লার গাড়িতে? মৌলভীবাজারে এক নির্মম বাস্তবতার গল্প সরকারি বরাদ্দের অপেক্ষা না করে নিজ অর্থায়নে রাস্তা সংস্কার করলেন মেম্বার পদপ্রার্থী পুতুল মিয়া কমলগঞ্জে নিরাপদ পণ্য ও প্রবাসীদের আস্থার ঠিকানা হয়ে উঠছে হালাল ডেইলি শপ ​কমলগঞ্জে নবাগত ওসির সাথে ‘নিসচা’ উপজেলা শাখার সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় ​শ্রীমঙ্গলে বসতঘরে চুরি: নগদ টাকা ও সরঞ্জামসহ গ্রেপ্তার ৫ কমলগঞ্জে ছাত্রশিবিরের জ্যৈষ্ঠ মাসিক ফলচক্র ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা সম্পন্ন কমলগঞ্জে পূর্ব শত্রুতার জেরে দফায় দফায় নৃশংস হামলা: প্রথমে দোকানে ও পরে হাসপাতালের ভেতরে ঢুকে দুই ভাইকে কোপানোর অভিযোগ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছে ধাক্কা: কমলগঞ্জে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থীর অকাল মৃত্যু

১৮ বছরের অবহেলা: কমলগঞ্জের কান্দিগাঁও গ্রামের সড়ক নিজ উদ্যোগে সংস্কার করছেন গ্রামবাসী

আহমেদ নাজিম / ১২৮ Time View
Update : সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬

158

শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ: কমলগঞ্জে ১৮ বছর পর নিজ উদ্যোগে সড়ক সংস্কারে গ্রামবাসী

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নে দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত একটি সড়ক অবশেষে গ্রামবাসীর নিজস্ব উদ্যোগে সংস্কার করা হচ্ছে। উপজেলার মণিপুরী মুসলিম ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী অধ্যুষিত কান্দিগাঁও গ্রামের এই সড়কটি গত ১৮ থেকে ২০ বছর ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে ছিল। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে কোনো কার্যকর সাড়া না পেয়ে শেষ পর্যন্ত স্বেচ্ছাশ্রম ও নিজস্ব অর্থায়নে সড়কটি চলাচলের উপযোগী করার কাজ শুরু করেছেন ক্ষুব্ধ ও ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

​চরম দুর্ভোগে স্কুল-মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা

​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কান্দিগাঁও গ্রামের জিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দারুসসালাম ইসলামীয়া মাদ্রাসার পাশ দিয়ে যাওয়া এই সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধু কান্দিগাঁও নয়, পার্শ্ববর্তী ছয়শ্রী ও পশ্চিম জলালপুর এলাকার প্রায় ৪ থেকে ৫ শতাধিক পরিবারের কয়েকশ মানুষ প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করেন।

​দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি ভাঙাচোরা ও বড় বড় গর্তে বেহাল হয়ে থাকায় বর্ষা মৌসুমে এখানে চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়। কাদা-পানি মাড়িয়ে জুতো হাতে নিয়ে স্কুল-মাদ্রাসায় যেতে বাধ্য হয় কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। এছাড়া অসুস্থ রোগী, বৃদ্ধ ও সাধারণ পথচারীদের যাতায়াতও যেন এক দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে।

​”এই রাস্তাটি শুধু আমাদের কান্দিগাঁওয়ের নয়, ছয়শ্রী ও পশ্চিম জলালপুরের মানুষও ব্যবহার করেন। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী, বর্ষায় আমাদের দুর্ভোগের কোনো সীমা থাকে না।”

ফয়েজ উদ্দিন, স্থানীয় বাসিন্দা

 

​জনপ্রতিনিধিদের উদাসীনতা ও ‘থাওবাল সমিতি’র উদ্যোগ

​স্থানীয় মুরুব্বি আব্দুল ওয়াহিদ মাস্টার অভিযোগ করে বলেন, “এটি মণিপুরী মুসলিম ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী অধ্যুষিত একটি অবহেলিত গ্রাম। প্রায় ১৮ বছর ধরে রাস্তাটি সংস্কারের দাবিতে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের কাছে বারবার ধরণা দেওয়া হলেও কেউ কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেননি। নির্বাচনের সময় সবাই প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে আর খবর রাখেন না।”

​তিনি আরও জানান, দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ থেকে বাঁচতে অবশেষে স্থানীয় সামাজিক সংগঠন ‘থাওবাল সমিতি’-র সহযোগিতায় গ্রামবাসী ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। প্রাথমিকভাবে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা ব্যয়ে রাস্তা সংস্কারের কাজ চলছে। গ্রামের তরুণরা দিনরাত স্বেচ্ছাশ্রমে মাটি ফেলা ও রাস্তা সমান করার কাজ করছেন।

​দারুসসালাম ইসলামীয়া মাদ্রাসার মুহতামিম ও কান্দিগাঁও জামে মসজিদের খতিব মুফতি নুরুল হুদা বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, গ্রামবাসী নিজেরা এগিয়ে এসেছেন। তবে স্থায়ী উন্নয়নের জন্য সরকারের আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন। বিশেষ করে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী অধ্যুষিত এলাকাগুলোর রাস্তাঘাট উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া উচিত, কারণ এখানকার শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করে।”

​যা বলছেন সংশ্লিষ্টরা

​এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে আদমপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য (মেম্বার) জানান, ২০২৩ সালে ওই গ্রামের স্কুলের পাশের সড়কে ২০০ ফুট ইটের সলিংয়ের কাজ করা হয়েছিল। আগামীতে রাস্তাটির আরও উন্নয়নমূলক কাজ করার আশ্বাস দেন তিনি।

​এদিকে, ৭ নম্বর আদমপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী ওয়াসিম আহমেদ জানান, তিনি ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে উপজেলা বিএনপির দায়িত্বশীল নেতাদের সাথে আলোচনা করে স্থানীয় এমপির (সংসদ সদস্য) মাধ্যমে রাস্তাটির স্থায়ী সংস্কার ও পাকাকরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।

​তবে এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য আদমপুর ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যানের সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

​এলাকাবাসীর দাবি

​ভুক্তভোগী গ্রামবাসীর দাবি, সাময়িকভাবে রাস্তাটি চলাচলের উপযোগী করা হলেও স্থায়ী সমাধানের জন্য দ্রুত সড়কটি পাকাকরণ করা প্রয়োজন। এটি বাস্তবায়িত হলে স্কুল-মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ কয়েকটি গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্টের অবসান ঘটবে এবং এলাকার সার্বিক জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd