স্বামীর বিদেশ যাত্রা ঠেকাতে পুলিশ সুপারকে (এসপি) ঘুষ দেওয়ার মতো দুঃসাহসিক চেষ্টা চালিয়ে ফেঁসে গেলেন এক নারী ও তার সহযোগী এক ব্যবসায়ী। বৃহস্পতিবার দুপুরে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া থানায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থলেই ঘুষের টাকাসহ দুইজনকে আটক করেছে।
আটককৃতরা হলেন— কুলাউড়া উপজেলার রাউৎগাঁও ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের বাসিন্দা ও স্থানীয় চৌধুরী বাজারের ব্যবসায়ী মইনুল ইসলাম চৌধুরী সামাদ এবং একই ইউনিয়নের আব্দুলপুর গ্রামের বাসিন্দা জেসমিন আক্তার।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেসমিন আক্তারের সাথে তার তালাকপ্রাপ্ত স্বামী মাহতাব মিয়ার দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধ ও আদালতে মামলা চলছে। সম্প্রতি জেসমিন জানতে পারেন যে তার প্রাক্তন স্বামী মাহতাব মিয়া বিদেশ যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। যেকোনো মূল্যে এই বিদেশ যাত্রা ঠেকাতে এবং তাকে নাজেহাল করতে জেসমিন আক্তার ব্যবসায়ী সামাদ চৌধুরীকে নিয়ে এক ফন্দি আঁটেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে কুলাউড়া থানায় সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মো. মুশফেকুর রহমানের দ্বি-বার্ষিক পরিদর্শন চলছিল। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজারের জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
পরিদর্শন চলাকালে জেসমিন ও সামাদ পুলিশ সুপারের সাথে দেখা করেন। এক পর্যায়ে মাহতাবের বিদেশ যাত্রা বন্ধের তদবির হিসেবে ঘুষ প্রদানের চেষ্টা করেন তারা। জানা গেছে, জেসমিন তার সাথে ২ লাখ টাকা নিয়ে এসেছিলেন। এর মধ্যে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা ব্যবসায়ী সামাদ নিজের কাছে সরিয়ে রেখে বাকি ৪০ হাজার টাকা পুলিশ সুপারকে দেওয়ার চেষ্টা করেন।
ঘুষের প্রস্তাব পাওয়ার সাথে সাথে পুলিশ সুপারের নির্দেশে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা তাদের দুজনকে নগদ টাকাসহ হাতেনাতে আটক করেন। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মোল্যা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান:
”পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছে। আটককৃতদের শুক্রবার আদালতে সোপর্দ করা হবে।”
একদিকে প্রাক্তন স্বামীর ওপর প্রতিহিংসা, অন্যদিকে পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার মতো ধৃষ্টতা— এই দুই মিলে পুরো কুলাউড়া এলাকায় এখন বইছে আলোচনার ঝড়।