
সিলেট-ঢাকা ও সিলেট-চট্টগ্রাম রেলপথে লক্কড়-ঝক্কড় ইঞ্জিন আর পুরনো কোচের কারণে যাত্রী সাধারণের দুর্ভোগ এখন নিত্যদিনের সঙ্গী। আজ মঙ্গলবার ভোরে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে চলন্ত আন্তঃনগর ‘উপবন এক্সপ্রেস’ ট্রেনের ইঞ্জিনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এই সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। এর ফলে সিলেটের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ কয়েক ঘণ্টার জন্য বন্ধ হয়ে যায়।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল আনুমানিক ৬টা ১০ মিনিটে ভানুগাছ ও শমসেরনগর রেলওয়ে স্টেশনের মধ্যবর্তী কালিপুর এলাকায় পৌঁছালে উপবন এক্সপ্রেসের ইঞ্জিনে হঠাৎ আগুন লেগে যায়। ধারণা করা হচ্ছে, চলন্ত অবস্থায় ইঞ্জিনের মবিল (তেল) লিক হয়ে এই আগুনের সূত্রপাত হয়।
আগুন লাগার পরপরই চালক ট্রেনটি থামিয়ে দেন। এতে বড় ধরনের কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও ইঞ্জিনটি বিকল হয়ে বনের মাঝখানে ট্রেনটি আটকা পড়ে। খবর পেয়ে সিলেট থেকে একটি বিকল্প ইঞ্জিন ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়। দীর্ঘ সময় ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় শত শত যাত্রী চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
সিলেট রুটে চলাচলকারী আন্তঃনগর ট্রেনগুলোর ইঞ্জিন ও কোচ দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারহীন। প্রায়ই মাঝপথে ইঞ্জিন বিকল হওয়া কিংবা যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ট্রেন দাঁড়িয়ে থাকার ঘটনা ঘটছে। নিয়মিত যাত্রীদের অভিযোগ, এই রুটে অপেক্ষাকৃত পুরনো ইঞ্জিন সরবরাহ করা হয়, যা দীর্ঘ যাত্রার ধকল সইতে পারে না।
সিলেট বিভাগ থেকে বর্তমানে মন্ত্রিসভায় দু’জন পূর্ণ মন্ত্রী, একজন প্রতিমন্ত্রী এবং একজন হুইপ প্রতিনিধিত্ব করছেন। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে এই অঞ্চলের চারজন প্রভাবশালী নেতার উপস্থিতিতে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা এখন আকাশচুম্বী।
সিলেটের সচেতন নাগরিক ও যাত্রীদের দাবি:
“সিলেটের মানুষ বারবার অবহেলিত। আমাদের চারজন প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধি সরকারের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে আছেন। আমরা আশা করি, তারা জনদুর্ভোগ লাঘবে খুব শীঘ্রই কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন এবং এই ‘অভিশপ্ত’ পুরনো ইঞ্জিনের হাত থেকে আমাদের মুক্তি দেবেন।” — সাধারণ এক যাত্রীর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিকল্প ইঞ্জিন আসার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। তবে স্থায়ী সমাধানের জন্য বড় ধরনের বিনিয়োগ ও আধুনিকায়নের কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।