
টানা ৫৪ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর চরম ভোগান্তির পর অবশেষে আলোর মুখ দেখল আলীনগর বস্তির একটি জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তা। আলীনগর বস্তীর হাজি মজবিল মিয়ার বাড়ি হইতে শুরু হওয়া ২০০ ফুটের কাঁচা রাস্তাটিতে অবশেষে ইটের সলিং (এইচবিবি) করণের কাজ শুরু হয়েছে। এতে করে দীর্ঘ অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে যাতায়াত কষ্টে ভোগা স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে বইছে আনন্দের বন্যা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই রাস্তাটি দিয়ে প্রতিদিন আনুমানিক ৪৫টি পরিবারের মানুষ যাতায়াত করেন। আলীনগর বস্তির অন্যতম প্রধান সংযোগ পথ হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘ ৫৪ বছর ধরে এটি সম্পূর্ণ অবহেলিত ও কাঁচা অবস্থায় পড়ে ছিল। বছরের পর বছর ধরে স্থানীয় বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে এই রাস্তা ব্যবহার করে আসছিলেন। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে এই রাস্তায় চলাচল করা একেবারে অসম্ভব হয়ে পড়ত। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাটি কাদা আর পানিতে তলিয়ে যেত।

দীর্ঘদিনের অবহেলিত এই রাস্তার উন্নয়ন কাজ পরিদর্শনে ও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবক ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ‘জুলাই যোদ্ধা’ জালাল আহমেদ আবেদ।
উপস্থিত থেকে কাজের গুণগত মান তদারকি করার পাশাপাশি তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলেন। এ সময় সমাজসেবক জালাল আহমেদ আবেদ বলেন:
” can দীর্ঘ ৫৪ বছর ধরে এই ৪৫টি পরিবারের মানুষ যে অমানবিক কষ্ট ভোগ করেছেন, তা সত্যিই দুঃখজনক। একটি স্বাধীন দেশে মানুষ এতটা বছর ধরে যাতায়াতের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত থাকবে, তা হতে পারে না। জুলাই বিপ্লবের চেতনা হলো বৈষম্যহীন সমাজ গঠন ও জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া। সেই লক্ষ্যেই আজ এই অবহেলিত রাস্তার কাজ শুরু হয়েছে। আমরা জনগণের পাশে আছি এবং এলাকার প্রতিটি উন্নয়নমূলক কাজে আমাদের এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।”
এলাকাবাসী ও সচেতন মহল মনে করেন, সমাজের জন্য কাজ করতে শুধু নেতা বা রাজনৈতিক পরিচয় লাগে না— লাগে সদিচ্ছা, ধৈর্য ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা। তারই বাস্তব উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন তরুণ সমাজসেবক জালাল আহমেদ আবেদ। দীর্ঘদিন ধরে নিরলস দৌড়াদৌড়ি, বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ ও আবেদন করার পর অবশেষে আলীনগরের গুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তার কাজের অনুমোদন ও উদ্বোধন হয়েছে। এটি শুধু একটি রাস্তার কাজ নয়, বরং একজন সচেতন তরুণের সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধের সফল প্রতিফলন। জালাল আহমেদ আবেদের এই জনকল্যাণমুখী উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে এলাকায় তাকে অভিনন্দন ও শুভকামনা জানাচ্ছেন সর্বস্তরের মানুষ।
রাস্তার কাজ শুরু হওয়ায় এলাকার কয়েকজন ভুক্তভোগী বাসিন্দা আবেগপ্লুত হয়ে বলেন, “আমরা প্রায় ৫৪ বছর ধরে এই রাস্তার জন্য কষ্ট করছি। বর্ষা এলে আমাদের ঘরের বাইরে বের হওয়াই দায় হয়ে পড়ত। আজ আমাদের চোখের সামনে ইটের সলিংয়ের কাজ হতে দেখে বিশ্বাসই হচ্ছে না। আমাদের কষ্ট দূর করতে জালাল আহমেদ আবেদ যেভাবে নিরলস চেষ্টা ও দৌড়াদৌড়ি করেছেন, তার প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।”
ইটের সলিংয়ের এই কাজ দ্রুত সম্পন্ন হলে ৪৫টি পরিবারের শত শত মানুষের যাতায়াতে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন হবে এবং এলাকার জীবনযাত্রার মান বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।