শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার): মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে এক শ্রমিক নেতার চোখে মরিচের গুঁড়ো ছিটিয়ে নৃশংসভাবে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীরা। (১২ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৮টার দিকে শ্রীমঙ্গল পৌর শহরের শাপলাবাগ আবাসিক এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। আহত লুৎফুর রহমান চৌধুরীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
আহত লুৎফুর রহমান চৌধুরী মৌলভীবাজার জেলা অটো-টেম্পু, মিশুক, সিএনজি ও পাওয়ার টমটম শ্রমিক ইউনিয়নের (রেজিঃ নং চট্ট-২৩৫৯) শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখার সহ-সভাপতি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাতে শাপলাবাগ এলাকায় ওত পেতে থাকা একদল মাদক ব্যবসায়ী লুৎফুর রহমানের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীদের মধ্যে ইয়াবা কারবারি হিসেবে পরিচিত আল আমিন ওরফে সুমন, মোঃ রাজন মিয়া (রাজন আহমদ) ওরফে ইয়াবা রাজন ও স্বপন মিয়ার নাম উঠে এসেছে।
হামলাকারীরা প্রথমে লুৎফুর রহমানের চোখে মরিচের গুঁড়ো ছিটিয়ে দেয় এবং এলোপাথাড়ি কিল-ঘুষি মারতে থাকে। জীবন বাঁচাতে তিনি দৌড়ে পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নিলে সন্ত্রাসীরা সেখানে ঢুকে চাইনিজ কুড়াল দিয়ে তাকে কুপিয়ে জখম করে। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার ডান হাত প্রায় বিচ্ছিন্ন হওয়ার উপক্রম হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় রাতেই তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এই হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। রাত ১০টার দিকে শ্রীমঙ্গল শহরের হবিগঞ্জ রোড এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। এতে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়ে যান চলাচল স্থবির হয়ে পড়ে।
পরবর্তীতে স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতা হাজী কামাল হোসেন ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আশ্বাসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতারের প্রতিশ্রুতি দিলে শ্রমিকরা অবরোধ তুলে নেন এবং সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে। হামলাকারীদের গ্রেফতারে সাঁড়াশি অভিযান চলছে এবং এ বিষয়ে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।