সিলেট বিভাগে হঠাৎ করেই সব ধরনের জ্বালানি তেল সরবরাহ ও পাম্প বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতি। ভ্রাম্যমাণ আদালতের সাম্প্রতিক অভিযানকে ‘চাঁদাবাজি’ ও ‘হয়রানি’ আখ্যা দিয়ে প্রতিবাদস্বরূপ এই ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে। আজ (২ এপ্রিল) সকাল থেকেই সিলেট বিভাগের জেলাগুলোতে পাম্প বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ পরিবহন চালক ও যাত্রীরা।
মূল ঘটনা:
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সিলেট অঞ্চলের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে জেলা প্রশাসন ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালিত হয়। পাম্প মালিকদের দাবি, অভিযানের নামে তাদের অযথা হয়রানি করা হচ্ছে এবং বিশাল অংকের জরিমানা করা হচ্ছে, যা কার্যত ‘চাঁদাবাজির’ শামিল। এর প্রতিবাদে আজ সকাল থেকে সিলেট, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ জেলার সব পাম্পে একযোগে তেল বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে।
জনদুর্ভোগের চিত্র:
সরেজমিনে দেখা গেছে, পাম্পগুলো বন্ধ থাকায় মোটরসাইকেল, সিএনজিচালিত অটোরিকশা এবং দূরপাল্লার বাসগুলো জ্বালানি সংকটে পড়েছে। অনেক চালক পাম্পের সামনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও তেল পাচ্ছেন না। বিশেষ করে জরুরি সেবার যানবাহন ও সাধারণ যাত্রীরা গন্তব্যে পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছেন।
মালিক সমিতির বক্তব্য:
পাম্প মালিক সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে হয়রানি বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এবং তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট চলবে। তারা দ্রুত এই সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান দাবি করেছেন।
অন্যদিকে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জনস্বার্থে এবং পরিমাপে কারচুপি রোধে নিয়ম অনুযায়ী এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, উদ্ভূত পরিস্থিতি নিরসনে প্রশাসন ও পাম্প মালিকদের মধ্যে আলোচনার চেষ্টা চলছে। তবে যতক্ষণ পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত না আসছে, ততক্ষণ সিলেট বিভাগে জ্বালানি সংকট প্রকট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।