মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় নিখোঁজের একদিন পর রিপন মিয়া (২৯) নামের এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরকীয়া প্রেমের জেরে পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সাকিব আহমদ (২৩) নামের এক সিএনজি অটোরিকশা চালককে আটক করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাতে উপজেলার টিলাগাঁও ইউনিয়নের চকসালন এলাকায় রেললাইনের পাশ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত রিপন মিয়া পৃথিমপাশা ইউনিয়নের আলীনগর গ্রামের হানু মিয়ার ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার (৯ মার্চ) রাত থেকে রিপন মিয়া নিখোঁজ ছিলেন। তাঁর মুঠোফোন বন্ধ থাকায় পরিবারের সদস্যরা দুশ্চিন্তায় পড়েন এবং বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। মঙ্গলবার রাতে টিলাগাঁওয়ের চকসালন এলাকায় রেললাইনের পাশে একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রিপন মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
স্থানীয়রা জানান, রিপন মিয়ার সিএনজি অটোরিকশা চালাতেন আলীনগর গ্রামের জমসেদ আলীর ছেলে সাকিব। সেই সুবাদে রিপনের বাড়িতে সাকিবের নিয়মিত যাতায়াত ছিল। একপর্যায়ে রিপনের স্ত্রীর সঙ্গে সাকিবের পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হলে রিপন ও সাকিবের মধ্যে চরম বিরোধের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের দাবি, রিপনের স্ত্রী ও ঘাতক সাকিবের পরকীয়া সম্পর্কের ভিডিও ক্লিপও রয়েছে।
ধারণা করা হচ্ছে, এই বিরোধের জেরে সোমবার রাতে সাকিব কৌশলে রিপনকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যান এবং ক্রিকেট খেলার স্টাম্প দিয়ে পিটিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করেন। নিজেকে ধরাছোঁয়ার বাইরে রাখতে মরদেহ উদ্ধারের সময় সাকিব সাধারণ মানুষের ভিড়ে ঘটনাস্থলেই উপস্থিত ছিলেন।
কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান মোল্যা জানান:
”প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আমরা অভিযুক্ত সাকিবকে আটক করেছি। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, এই ঘটনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কি না তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আটক সাকিবকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে সোপর্দ করা হবে এবং এ ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।