
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় জ্বালানি সংকটের ‘গুজব’ ছড়িয়ে যখন সাধারণ মানুষ দিশেহারা, ঠিক তখনই কমলগঞ্জের শমশেরনগরে এক অভিনব কারসাজির মুখে পড়েছেন মোটরসাইকেল চালকরা। সংকট দেখিয়ে একদিকে যেমন তেল বিক্রি বন্ধ রাখার ভান করা হচ্ছিল, অন্যদিকে লিটারে দেওয়া হচ্ছিল ওজনে কম। জনস্বার্থবিরোধী এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সোমবার ঝটিকা অভিযান চালিয়ে ৪টি প্রতিষ্ঠানকে ৩৯ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
কয়েকদিন ধরেই কমলগঞ্জের শমশেরনগর ও ভানুগাছ বাজারে জ্বালানি তেল নিয়ে ব্যবসায়ীদের লুকোচুরি চরমে পৌঁছায়। মোটরসাইকেল চালকদের অভিযোগ ছিল, পর্যাপ্ত মজুত থাকলেও দোকানিরা এক লিটার বা আধা লিটারের বেশি তেল দিতে চাচ্ছিলেন না। এমন পরিস্থিতিতে সোমবার মাঠে নামে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত।
অভিযান চলাকালে শমশেরনগর চৌমুহনায় কৈলাস প্রসাদ তেলীর দোকানটি প্রথমে বন্ধ পাওয়া যায়। কিন্তু নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আবিদ হোসেনের উপস্থিতিতে দোকান খোলাতেই বেরিয়ে আসে আসল চিত্র। ভেতরে পর্যাপ্ত তেল মজুত থাকলেও বাইরে টাঙানো ছিল ‘তেল নেই’ সাইনবোর্ড। বিএসটিআই-এর প্রতিনিধি দিয়ে মাপযন্ত্র পরীক্ষা করতেই ধরা পড়ে লিটারে ব্যাপক কারচুপির প্রমাণ।
"ভোক্তার পকেট কাটতে কৌশলে মাপে কম দেওয়া এবং মজুত থাকা সত্ত্বেও তেল বিক্রি না করা দণ্ডনীয় অপরাধ। অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় কেবল কৈলাস প্রসাদকেই ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।"
— মোহাম্মদ আবিদ হোসেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
অভিযানে মোট ৪টি প্রতিষ্ঠানকে শাস্তির আওতায় আনা হয়:
ভ্রাম্যমাণ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, বিশ্ব পরিস্থিতির দোহাই দিয়ে কোনো ব্যবসায়ী যদি বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেন বা ওজনে কম দিয়ে ভোক্তাদের ঠকান, তবে তাদের বিরুদ্ধে জেল-জরিমানাসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনস্বার্থে এই ‘অ্যাকশন’ চলবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।